আয়াতুল কুরসির ফজিলত

0
1388
আয়াতুল কুরসির ফজিলত

আয়াতুল কুরসির ফজিলত সম্পর্কে আমদেরেকে জানতে হবে।আয়াতুল কুরসী হচ্ছে পবিত্র কোরআন শরীফের দ্বিতীয় সুরা আল বাকারার ২৫৫ তম আয়াত।ইসলামিক বিশ্বে ব্যাপকভাবে মুখস্ত করা হয় নিয়মিত আমল করার জন্য।এতে সমগ্র আলমের উপর আল্লাহর জোরালো ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছ।আয়াতুল কুরসি পাঠ করার কারণে বা যারা আমল করে তাদের থেকে শয়তান দূরে থাকে এবং তাদের উপর কোন প্রকার যাদু কাজ করে না। বিভিন্ন বিপদ আপদ থেকে বেঁচে থাকে। আয়াতুল কুরসির ফজিলত আর‌ও কি আছে?

জবাব: হাদিস শরিফে আয়াতুল কুরসির ফজিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে নিম্নে কয়েকটি পেশ করা হল-

আয়াতুল কুরসি:

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ [٢:٢٥٥]

বাংলা উচ্চারণঃ-

  • আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যুমু লা তা খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা
  • বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম।

বাংলা অনুবাদঃ-

  • আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই,তিঁনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর।কে আছ এমন,যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া?
  • দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিঁনি জানেন।তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হ’তে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না,কেবল যতুটুকু তিঁনি দিতে ইচ্ছা করেন।তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। [সূরা বাকারা,আয়াত নং ২৫৫]
  • উপর থেকে আমরা জানতে পারলাম যে আয়াতুল কুরসির ফজিলত অনেক।

আয়াতুল কুরসীর ফজিলত:-

জান্নাতের দরজা

  • আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে,তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না।[সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪]
  • হজরত আলী (রা:) বলেন,আঁমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি,যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়ে,তার জান্নাত প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে।যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে,প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন [সুনানে বাইহাকী ]

আয়াতুল কুরসীর মর্যাদাসম্পন্ন মহান আয়াত:-

  • আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা:)-নবী ﷺ কে জিজ্ঞেস করেছিলেন,হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আঁপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পূন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? রাসূল ﷺ বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসী। (নাসায়ি)
  • আবূ যার (রা:) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম)-এঁর কাছে জানতে চাইলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম)! কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন আয়াতে কারিমা কোনটি? তিঁনি উত্তরে বললেন : “আয়াতুল কুরসী: [তাফসীর ইবনু কাসির-১ম, ২য় ও ৩য় খন্ড, পৃ: ৭০৩]

উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত :-

  • উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত:নবী ﷺ উবাই বিন কা‘বকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “তোমার কাছে কুরআন মজীদের কোন আয়াতটি সর্ব মহান? তিনি বলেছিলেন: (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল্ হাইয়্যূল কাইয়্যূম) তারপর রাসূলুল্লাহ্ নিঁজ হাত দ্বারা তার বক্ষে আঘাত করে বলেন: আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ”। [সহীহ মুসলিম: ১৭৫৫]
  • তিনি উত্তরে বলেন : আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলায়হি ওয়াসাল্লাম)-ই সবচেয়ে ভাল জানেন।

পুনরায় এটাই জিজ্ঞেস করেন

  • [তাফসীর ইবনু কাসির-১ম,২য় ও ৩য় খন্ড, পৃ: ৭০২।]
  • উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত:নবী কারীম ﷺ বলেছেন: আল্লাহর কসম!যার হাতে আঁমার প্রাণ আয়াতুল কুরসীর একটি জিহবা ও দুটি ঠোট রয়েছে এটি আরশের পায়ার কাছে আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকে। [মুসনাদে আহমদ: ২১৬০২]

ফেরেশতা নিযুক্তকারী আয়াত:-

  • আবূ আইয়্যূব আনসারী (রা:) বলেন : আমার ধনাগার হতে জিনেরা ধন চুরি করে নিয়ে যেত,আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম)-এঁর কাছে এজন্য অভিযোগ করি।তখন তিঁনি বলেন : যখন তুমি তাকে দেখবে তখন বিসমিল্লাহী আজিবী রসুলুল্লাহে পাঠ করবে।যখন সে এলো তখন আমি এটা পাঠ করে তাকে ধরে ফেললাম।সে বলল : আমি আর আসব না।

তিঁনি আমাকে বললেন :

  • সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম)-এঁর খিদমতে উপস্থিত হলে তিঁনি আমাকে বললেন : তোমার বন্দি কি করেছিল? আমি বললাম : তাকে আমি ধরে ফেলেছিলাম। কিন্তু সে আর না আসার অঙ্গীকার রায় তাকে ছেড়ে দিয়েছি।
  • তিঁনি বললেন : সে আবার আসবে।আমি এভাবে তাকে দু’তিনবার ধরে ফেলি এবং অঙ্গীকার নিয়ে ছেড়ে দেই।আমি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম)-এঁর নিকট বর্ণনা করি।তিঁনি বারবারই বলেন : সে আবার আসবে।

শেষবার আমিঃ-

  • শেষবার আমি তাকে বলি : এবার তোমাকে ছাড়ব না।সে বলে, আমাকে ছেড়ে দিন।আমি আঁপনাকে এমন একটি জিনিস শিখিয়ে দিচ্ছি যে, কোন জিন ও শয়তান আঁপনার কাছে আসতেই পারবে না।আমি বললাম : আচ্ছা বলে দাও। সে বলল : ওটা ‘আয়াতুল কুরসী’।আমি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম)-এঁর কাছে বর্ণনা করি। তিঁনি বলেন,‘সে মিথ্যাবাদি হলেও এটা সে সত্যই বলেছে।[তথ্যসূত্র:মুসনাদ-ই আহমাদ,তাফসীর ইবনু কাসির-১ম ২য় ও ৩য় খন্ড,পৃ: ৭০৪]

এভাবেও বর্ননায় এসেছে

  • আবার এভাবেও বর্ননায় এসেছে। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) একদিন দেখতে পেলেন একজন আগন্তুক সদকার মাল চুরি করতেছে তখন তিনি আগন্তুকের হাত ধরে বললেন,”আল্লাহর কসম,আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব।”তখন আগন্তুক বলে যে সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন।
  • তাই দয়া করে আবু হুরায়রা (রাঃ) তাকে ছেড়ে দিলেন।পরদিন সকালে রাসূল ﷺ এঁর কাছে আসার পর তিঁনি আবু হুরায়রা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন “গতকাল তোমার অপরাধী কি করছে ?” আবু হুরায়রা (রাঃ)তখন তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন।রাসূল ﷺ বললেন, “অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে ।”

পরদিন আবু হুরায়রা (রাঃ) চোরের জন্

  • পরদিন আবু হুরায়রা (রাঃ) চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন আর যখন সে আবার ও চুরি করতে আসল তখন তিন তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেন “এবার অবশ্যই ,আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব ।” এবার ও সেই চোর বলে যে সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন আর শপথ করে যে আর আসবে না।পরদিন আবারও রাসূল ﷺ তাকে (আবু হুরায়রা রা:) জিজ্ঞাসা করলে তিনি একই জবাব দেন আর তখন তিঁনি (নবিজি ﷺ) বলেন,”আসলেই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার … আসবে ।”
  • পরদিন ও আবার আবু হুরায়রা (রাঃ) চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন আর যখন সে আবার ও চুরি করতে আসল তখন তিন তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেন “এবার অবশ্যই, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব ।

তুমি বার বার শপথ করঃ-

  • তুমি বার বার শপথ কর আর চুরি করতে আসে ।” চোর যখন দেখল এবার সে সত্যিই রাসূল ﷺ এঁর কাছে নিয়ে যাবে তখন অবস্থা বেগতিক দেখে সে বলে,”আমাকে মাফ কর।আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দিব যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন।
  • ” আবু হুরায়রা (রাঃ) সেটা জানতে চাইলে চোর বলে;”যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসী (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল……) পড়ে ঘুমাবে তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহাড়াদার নিযুক্ত করবে যে তোমার সাথে থাকবে আর কোন শয়তান সকাল পর্যন্ত তার কাছে আসতে পারবে না ।” এটা শুনে আবু হুরায়রা (রাঃ) তাকে ছেড়ে দিলেন ।

পরদিন রাসূল

  • পরদিন রাসূল ﷺ আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বললেন।তখন রাসূল ﷺ বললেন; “যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে।” রাসূল (ﷺ)-আবু হুরায়রা (রাঃ) কে বললেন ;”তুমি কি জান সে কে ?” আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন ;” না ।”রাসূল (ﷺ)-আবু হুরায়রা (রাঃ) কে বললেন,”সে হচ্ছে শয়তান ।” [সহীহ বুখারী]
  • প্রত্যেক ফরজ সালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠকারীর জন্য জান্নাতে যেতে আর কোনো বাধা থাকেনা মৃত্যু ব্যতীত| (নাসাই)
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,প্রত্যেক ফরয ছালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আর কোন বাধা থাকে না মৃত্যু ব্যতীত’ (নাসাঈ)।
  • শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযু্ক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হ’তে না পারে’ (বুখারী)।

ভিবিন্ন দলিল

  • নাসাঈ কুবরা হা/৯৯২৮
  • সিলসিলা ছহীহাহ হা/৯৭২
  • মিশকাত হা/৯৭৪, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪,অনুচ্ছেদ-১৮
  • মুসলিম, বুখারী,মিশকাত হা/২১২২-২৩ ‘কুরআনের ফাযায়েল’ অধ্যায়-৮

শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার আয়াতঃ-

  • হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত: রাসুল ﷺ বলেছেন: সুরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে,যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে।[মুস্তাদরাকে হাকিম:২১০৩]
  • আবূ হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আনহু) বলেছেন, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন সূরা আল বাক্বারায় এমন একটি আয়াত রয়েছে যা কুরআনের অন্য সব আয়াতের সর্দার বা নেতা।সে আয়াতটি যে ঘরে পড়া হয়, তা থেকে শয়তান বেরিয়ে যায়। [তাফসীর মা’ আরেফুল কুরআন-১ম খণ্ড, পৃ: ৬৭৬]

তিনি বলেন:

  • তিনি বলেন: তোমার আসার কারণ কি? সে বলে: আমরা শুনেছি আপনি সাদকা পছন্দ করেন,তাই কিছু সাদকার খাদ্যসামগ্রী নিতে এসেছি। সাহাবী বলেন: তোমাদের থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?

কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত

عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: ” يَا أَبَا الْمُنْذِرِ ، أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَكَ أَعْظَمُ ؟ قَالَ : قُلْتُ : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ : يَا أَبَا الْمُنْذِرِ ، ” أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَكَ أَعْظَمُ ؟ قَالَ : قُلْتُ : اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ سورة البقرة آية 255 ” ، قَالَ : فَضَرَبَ فِي صَدْرِي ، وَقَالَ : وَاللَّهِ لِيَهْنِكَ الْعِلْمُ أَبَا الْمُنْذِرِ .

উবাই বিন কা’ব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ উবাই বিন কা’বকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে কোরআন মজিদের কোন আয়াতটি সর্ব মহান? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল্ হাইয়্যূল কাইয়্যূম…) তারপর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ নিজ হাত দ্বারা তার বক্ষে আঘাত করে বলেন, আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ। (মুসলিম ১৩৯৬)

শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার আয়াত

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ ، أَنَّهُ كَانَ لَهُمْ جَرِينٌ فِيهِ تَمْرٌ ، وَكَانَ مِمَّا يَتَعَاهَدُهُ فَيَجِدُهُ يَنْقُصُ ، فَحَرَسَهُ ذَاتَ لَيْلَةٍ ، فَإِذَا هُوَ بِدَابَّةٍ كَهَيْئَةِ الْغُلامِ الْمُحْتَلِمِ . قَالَ : فَسَلَّمْتُ فَرَدَّ السَّلامَ ، فَقُلْتُ : مَا أَنْتَ ، جِنٌّ أَمْ إِنْسٌ ؟ فَقَالَ : جِنٌّ ، فَقُلْتُ : نَاوِلْنِي يَدَكَ ، فَإِذَا يَدُ كَلْبٍ وَشَعْرُ كَلْبٍ ، فَقُلْتُ : هَكَذَا خُلِقَ الْجِنُّ ، فَقَالَ : لَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنُّ أَنَّهُ مَا فِيهِمْ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنِّي ، فَقُلْتُ : مَا يَحْمِلُكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ ؟ قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّكَ رَجُلٌ تُحِبُّ الصَّدَقَةَ ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُصِيبَ مِنْ طَعَامِكَ ، قُلْتُ : فَمَا الَّذِي يَحْرِزُنَا مِنْكُمْ ؟ فَقَالَ : هَذِهِ الآيَةُ ، آيَةُ الْكُرْسِيِّ ، قَالَ : فَتَرَكْتُهُ . وَغَدَا أَبِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، فَأَخْبَرَهُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” صَدَقَ الْخَبِيثُ  

উবাই বিন কা’ব রাযি. থেকে বর্ণিত, তাঁর এক খেজুর রাখার থলি ছিল। সেটায় ক্রমশ তার খেজুর কমতে থাকত। একরাতে সে পাহারা দেয়। হঠাৎ যুবকের মত এক জন্তু দেখা গেলে, তিনি তাকে সালাম দেন।

সে সালামের উত্তর দেয় । তিনি বলেন, তুমি কি? জিন না মানুষ? সে বলে, জিন। উবাই রাযি. তার হাত দেখতে চান। সে তার হাত দেয়। তার হাত ছিল কুকুরের হাতের মত আর চুল ছিল কুকুরের চুলের মত। তিনি বলেন, এটা জিনের সুরত। সে (জন্তু) বলে, জিন সম্প্রদায়ের মধ্যে আমি সবচেয়ে সাহসী।

সাহাবী বলেনঃ-

তিনি বলেন, তোমার আসার কারণ কি? সে বলে, আমরা শুনেছি আপনি সাদকা পছন্দ করেন, তাই কিছু সাদকার খাদ্যসামগ্রী নিতে এসেছি। সাহাবী বলেন, তোমাদের থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? সে বলে,

রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেনঃ-

পরদিন আবারও রাসূল রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, গতকাল তোমার অপরাধী কী করেছে? আমি এবারও উত্তর দিলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, লোকটি নাকি অনেক অভাবী তাই তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। এবারও রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে।

তৃতীয় দিনও আমি

আমি তোমাকে এমন কিছু কথা বলে দিব যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন। আমি বললাম, সেগুলো কী?

আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, না । রাসূলﷺ আবু হুরায়রা কে বললেন , সে হচ্ছে শয়তান । (সহীহ বুখারী ২৩১১)

প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করুন

আবু উমামাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

  مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا أَنْ يَمُوتَ
যে ব্যাক্তি প্রতেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ব্যতিত আর কোন বাঁধা থাকবে না। (নাসায়ী ৯৪৪৮ তাবারানী ৭৮৩২)

আমাদেরকে আয়াতুল কুরসির ফজিলত সম্পর্কে জানতে হবে।আয়াতুল কুরসির ফজিলত আমাদের জিবনে কাজে লাগাতে হবে।আল্লাহ যেন আমদের বুঝ দান করে।আমিন আয়াতুল কুরসির ফজিলত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here