খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা

0
2516
খেজুরের উপকারিতা
খেজুরের উপকারিতা

খেজুর অতি পরিচিত ফল।খেজুরের উপকারিতা কি কি আমাদের অনেকের জানা নাই।খেজুর খেলে আমারা অনেক রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারি। তাই আমাদের…

খেজুর এর পরিচিত

খেজুর অতি পরিচিত ফল। যা মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রচুর খেজুর গাছ হয়। সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপন্ন হয় মিসর, ইরান, আলজেরিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, পাকিস্তান, সুদান, ওমান ও তিউনিসিয়ায়।

বাংলাদেশের খুলনা, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ফরিদপুর, লালমাই পাহাড়ী এলাকা, ভাওয়াল ও মধুপুর গড়ে এ গাছ বেশি এবং সর্বত্রই কমবেশি জন্মে। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব মতে, বাংলাদেশে ৬৮.১০ বর্গকিলোমিটার জমিতে খেজুর গাছ জন্মে।

এদেশে খেজুর গাছের সংখ্যা ৬ কোটি ৬৭ লক্ষের বেশি। খেজুর গাছ স্ত্রী, পুরুষ উভয়ই হয়। শতকরা ৫০ ভাগ স্ত্রী গাছ হয়। ৪-৮ বছরের মধ্যে গাছে ফল আসে। স্ত্রী গাছে ফুল ও ফল হয়। ফল প্রথমে সবুজ. পাকলে খয়েরি লাল রঙের হয়।

শীতের শেষে ফুল ধরে ও গ্রীষ্মে ফল পরিপক্ব হয়। একটি গাছে ৭০-১৪০ কেজি ফল পাওয়া যায়। এ দেশের খেজুর বিস্বাদ হয়। সারা বছর বিশেষত পবিত্র মাহে রমজানের ইফতারে মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর খাই। মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর যেমন মিষ্টি তেমন সুস্বাদু।

এ দেশের খেজুরের স্বাদ না থাকায় রস ও গুড়ের ব্যবহারই বেশি। শীতকালে সারাদশে শীতের পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে। শীতের শুরু হতে শেষ অবধি খেজুর রস সংগ্রহ করা হয়। এজন্য গাছের উপরের দিকে কেটে ফেলতে হয়। কাটা অংশের নিচে বাঁশ বা গাছের খিল লাগানো হয় যার মাধ্যমে ফোঁটা ফোঁটা রস নিচে লাগানো হাড়িতে জমে। সারারাতে হাড়ি রসে ভর্তি হয়। খুব সকালে হাড়ি নামানো হয়।

রস সংগ্রহ ও খাওয়ার জন্য সাবধানতা জরুরি। কেননা রাতে বাদুড় রস খাওয়ার জন্য হাড়িতে মুখ লাগায়। এতে বাদুড়ের লালা রসের সাথে মিশে যায়। যা খুব বিষাক্ত। এজন্য রস জ্বাল দিয়ে পান করলে বিষাক্ত বস্তু নষ্ট হয় ও কোন ক্ষতি হয় না। রসের হাড়ি জ্বাল দিয়ে ঢাকতে হবে যাতে বাদুড় মুখ লাগাতে না পারে।

গাছ কাটা ও রস আহরণকারীকে বলা হয় গাছি। গাছিরা কাঠ দা ও গাছি দা এ দু প্রকার দা ব্যবহার করে। শীতকালে গাছিদের কদর বাড়ে।  খেজুর শক্তিবর্ধক ফল। খেজুরের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে আছে ১৪৪ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ৩৩.৮০ ভাগ শর্করা, ১.২০ গ্রাম আমিষ, ০.৪০ গ্রাম চর্বি, ২২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৫১.২০ গ্রাম জলীয় অংশ ও ৭.৫ ভাগ আঁশ। ফল শর্করা, চিনি, আঁশ, চর্বি, আমিষ, সকল প্রকার খাদ্যপ্রাণ, বিটাক্যারোটিন, বিভিন্ন খনিজ উপাদান, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, দস্তা ও লৌহ সমৃদ্ধ। মিষ্টি খেজুরে শতকরা ৮০ ভাগ চিনি ও ২০ ভাগ পানি আছে।

ইসলামে অন্যান্য ফলের তুলনায় খেজুরের মর্যাদা বেশি। পবিত্র কোরআন শরীফে ২০ বার খেজুরের বর্ণনা রয়েছে। পবিত্র কোরআন শরীফ প্রথম লেখা হয় খেজুর পাতায়। মহানবী রসুলুল্লাহ্ (সা:) এর প্রিয় ফল ছিল খেজুর। মহানবী (সা:) প্রতিদিন সকালে খেজুর দিয়ে নাস্তা করতেন। তিনি (সা:) মুমিন মুসলমানদের খেজুর খেয়ে পবিত্র রমজানের ইফতার করতে বলতেন। পবিত্র কোরআন শরীফ ও রসুলুল্লাহ্ (সা:) এর হাদিস হতে খেজুরের গুণের কথা জানা যায়।

খেজুর ফল পুষ্টিকরই নয়, ভেষজ গুণ সম্পন্ন। বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে খেজুরের কার্যকারিতা রয়েছে। ফল খুব সুস্বাদু ও ক্ষুধা নিবারক। হৃদরোগ, বিষক্রিয়া, জ¦র, পেটের পীড়া, পাতলা পায়খানা, গলাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা. ঠান্ডা, কফ, নারীদের শ্বেতপ্রদর, শিশুর রিকেট নিরাময়ে ফল খুব কার্যকর।

ফল শারীরিক, মানসিক শক্তি বাড়ায়, হজমশক্তি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও যৌন দুর্বলতা দূর করে। গরম পানিতে খেজুর সিদ্ধ করা পানি পান করলে গলার ক্ষত ও ঠান্ডা সারে। ফল পেশি সংকোচন ও শক্তিশালী করে বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্ত্রের পীড়া উপশম ও বীজের গুড়া কালাজ্বর নিরাময় করে। রস খেলে কৃমি দূর হয়।

খেজুরের পাতা, কান্ড, বীজ ও আঠার নানা উপকারিতা রয়েছে। পুরাতন গাছের চিলেপাতা নামক পরগাছা ভেষজ গুণ সম্পন্ন। কান্ডের আঠা পাতলা পায়খানা ও প্রস্রাবের সমস্যায় উপকারী। শিকড় হতে ওষুধ হয়।

গাছের কান্ড ঘরের খুঁটি, তক্তা, বাটাম, রোয়া তৈরিসহ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাতা দিয়ে পাটি, চাটাই ও মাদুর হয়। কান্ড ও পাতা জ্বালানীর কাজেও ব্যবহৃত হয়। রস দিয়ে তৈরি হয় পিঠা, পায়েস, ক্ষীর, চিনি, মিছরি, ভিনেগার ও গুড়।

রস হতে নলেন গুড়, চিটা গুড়, দানা গুড়, ঝোলা গুড়, মৌঝোলা গুড় ও পাটালি গুড় তৈরি হয়। যশোর ও ফরিদপুরের গুড়ের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। খেজুর গাছ পরিবেশ সুরক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ করে।

পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও নানা রোগের ওষুধ হিসেবে এর জুরি নেই। ময়মনসিংহের ভালুকা, যশোর, মাগুরা ও বেশ কিছু অঞ্চলে সৌদি আরবের খেজুর চাষ করা হচ্ছে।

পরিকল্পিতভাবে বাগান করে, ক্ষেতের আইলে, রাস্তার পাশে খেজুর গাছ লাগিয়ে অনেক আয় করার পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। খেজুর চাষ, পরিচর্যা, রোগবালাই দমন বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। খেজুরকে কেন্দ্র করে কুটির শিল্প গড়ে তুললে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

খেজুরের উপকারিতা

  • খেজুরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। এতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম রয়েছে। আঁশের জোগানও যথেষ্ট। তাই এ ফল ডায়েটে রাখতে পারলে শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান সহজেই মেলে।
  • রক্তস্বল্পতা রয়েছে এমন রোগীর ক্ষেত্রে খেজুর খুবই প্রয়োজনীয়। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে যতটুকু আয়রন প্রয়োজন, তার প্রায় ১১ ভাগ পূরণ করে খেজুর।
  • চিনির অন্যতম সেরা বিকল্প খেজুরের রস ও গুড়। খেজুরের গুড় চিনির পরিবর্তেও অনেক সময় ব্যবহার করা হয়।
  • হৃদস্পন্দনের হার ঠিক রাখতে সাহায্য করে খেজুরের ভেতরে থাকা নানা খনিজ। তাই হার্টের স্বাস্থ্যের জন্যও এই ফল উপকারী।
  • খেজুরে থাকা সোডিয়াম রক্তের চাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ডায়াটে খেজুর রাখা উচিত।
  • খেজুরে লিউটেন ও জিক্সাথিন থাকায় তা রেটিনার স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে।
  • রুচি বাড়াতে খেজুরের কোন তুলনা হয় না। অনেক শিশুরা তেমন একটা খেতে চায় না, তাদেরকে নিয়মিত খেজুর খেতে দিলে রুচি ফিরে আসবে। ২. তুলনামূলকভাবে শক্ত খেজুরকে পানিতে ভিজিয়ে (সারা রাত) সেই পানি খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। তাজা খেজুর নরম এবং মাংসল যা সহজেই হজম হয়।
  • হৃদপিণ্ডের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। গবেষণায় দেখা যায়, পুরোরাত খেজুর পানিতে ভিজিয়ে সকালে পিষে খাওয়ার অভ্যাস হার্টের রোগীর সুস্থতায় কাজ করে।
  • ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এই ফল দৃষ্টিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল বিদ্যমান থাকায় অনেক রোগ নিরাময় করা সম্ভব। সাথে সাথে আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।
  • খুব দুর্বল লাগছে অথবা দেহে এনার্জির অভাব হচ্ছে? তাহলে ঝটপট খেয়ে নিন খেজুর। তাৎক্ষণিকভাবে দেহে এনার্জি সরবরাহের ক্ষেত্রে খেজুরের তুলনা নেই।
  • খেজুর বিভিন্ন ক্যান্সার থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে অনেক ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন খেজুর লাংস ও ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
  • খেজুরের মধ্যে রয়েছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার ও বিভিন্ন ধরণের অ্যামিনো অ্যাসিড যা সহজে খাবার হজমে সহায়তা করে। এতে করে খাবার হজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
  • খেজুরে আছে ডায়েটরই ফাইবার যা কলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়। ফলে ওজন বেশি বাড়ে না, সঠিক ওজনে দেহকে সুন্দর রাখা যায়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য খেজুর খুবই উপকারী।
  • খেজুরের চূর্ণ মাজন হিসেবে ব্যবহার করলে দাঁত পরিষ্কার হয়।
  • খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের আয়রনের অভাব পূরণ করে এবং রক্তস্বল্পতা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। যাদের এই রক্তস্বল্পতার সমস্যা রয়েছে তাদের প্রতিদিন খেজুর খাওর অভ্যাস করা উচিত। কারণ, রক্তস্বল্পতা ও শরীরের ক্ষয়রোধ করতে খেজুরের রয়েছে বিশেষ গুণ।

খেজুর কেন খাবেন?

  • খেজুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল, যা আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।
  •  খেজুরে আছে ডায়েটরই ফাইবার যা কলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়।
  • খেজুর লাংস ও ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে রাখে।
  • সারাদিন রোজা রাখার পর পেট খালি থাকে বলে শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটা দ্রুত পূরণে সাহায্য করে।
  • তুলনামূলকভাবে শক্ত খেজুরকে পানিতে ভিজিয়ে (সারা রাত) সেই পানি খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
  • মুখের লালাকে ভালোভাবে খাবারের সঙ্গে মিশতে সাহায্য করে খেজুর। ফলে বদহজম দূর হয়। হৃদরোগ কমাতেও খেজুর বেশ উপকারী।
  • নারীদের শ্বেতপ্রদর ও শিশুর রিকেট নিরাময়ে খেজুরের কার্যকারিতা প্রশ্নাতীত।
  • খেজুরে রয়েছে ৬৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৭.৩ মিলিগ্রাম লৌহ – যা হাড়, দাঁত, নখ, ত্বক, চুল ভালো রাখতে সহয়তা করে।
  • তাজা খেজুর নরম এবং মাংসল যা সহজেই হজম হয়।
  • খেজুরে আছে ডায়েটরই ফাইবার যা কলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়।
  •  খেজুরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম বিদ্যমান যা আমাদের শরীরের নার্ভ সিস্টেমকে সচল রাখার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, খেজুরের মধ্যে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম বিদ্যমান থাকে যা মানুষের ষ্ট্রোক হওয়ার ভয়াবহতাকে ৪০% কমিয়ে দেয়।
  • ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এই ফল দৃষ্টিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • খনিজ পদার্থ দৈহিক পুষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করে। খেজুর দেহে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে।
  • খেজুর লাংস ও ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে রাখে।
  • আজওয়া খেজুর বিষের মহৌষধ।
  • খাদ্যশক্তি থাকায় দুর্বলতা দূর হয়
  • স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে
  • রোজায় অনেকক্ষন খালি পেটে থাকা হয় বলে দেহের প্রচুর গ্লুকোজের দরকার হয়
  •  হজমশক্তি বর্ধক, যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক
  •  রুচি বাড়ায়
  •  ত্বক ভালো রাখে
  • এর চুর্ণ মাজন হিসেবে ব্যবহার করলে দাঁত পরিষ্কার হয়।
  • দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
  • দুর্বলতা কাটাতে অনেক সাহায্য করে এবং ডেলিভারীর পর মায়েদের অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করতে ও খেজুর সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং পরবর্তী সময়ে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
  • পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারী
  • ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে
  • প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে ৩২৪ মিলিগ্রাম ক্যালরি থাকে। ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে, তাই খেজুর শিশুদের জন্যও অনেক উপকারী একটি ফল।
  • অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান জন্মের সময় খেজুর খেলে জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে, প্রসব হতে সাহায্য করে
  • প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়।
  • মুখের অর্ধাঙ্গ রোগ, পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারী। খেজুরের বিচিও রোগ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
  • পাতলা পায়খানা বন্ধ করে।
  • খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি এবং এজমায় উপকারী।
  • উচ্চমাত্রার শর্করা, ক্যালরি ও ফ্যাট সম্পন্ন খেজুর জ্বর, মূত্রথলির ইনফেকশন, যৌনরোগ, গনোরিয়া, কণ্ঠনালির ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী।
  • নেশাগ্রস্তদের অঙ্গক্ষয় প্রতিরোধ করে খেজুর। স্বাস্থ্য ভালো করতে বাড়িতে তৈরী ঘিয়ে ভাজা খেজুর ভাতের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • খেজুরে অনেক গ্লুকোজ থাকায় এ ঘাটতি পূরণ হয়
  •  হৃদরোগীদের জন্যও খেজুর বেশ উপকারী
  • ৭/৮ মাস সময় থেকে গর্ভবতী মায়েদের জন্য খেজুর একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য। এসময় গর্ভবতী মায়েদের শরীরে অনেক দুর্বলতা কাজ করে। তখন খেজুর মায়েদের শরীরের এই
  • খেজুরের প্রচুর খাদ্য উপাদান রয়েছে
  •  খেজুর রক্ত উৎপাদনকারী
  • খেজুর মস্তিষ্ককে প্রাণবন্ত রাখে খেজুর।
  • ক্লান্ত শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তির যোগান দেয় খেজুর।(৩৭)সুস্থ হৃদপিন্ডে দেহযন্ত্রে স্বাচ্ছন্দ এবং সতেজ বিধান করে এমন শক্তিদায়ক বা বলবর্ধক ঔষধ হিসেবে খেজুরের জুড়ি নেই।
  • যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য খেজুর খুবই উপকারী।
  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেজুর ব্লেন্ড করা জুস খেলে হার্টের সমস্যায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি ভাল সমাধান পাবেন।
  • (৪০)  খেজুরে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি থাকে বিধায় যারা একটু দূর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী, সামান্য পরিশ্রমে হয়রান হয়ে যায় তাদের জন্য খেজুর একটি উৎকৃষ্ট পথ্য।
  • দেহকে সচল ও কার্যক্ষম রাখতে শক্তির প্রয়োজন। এর অভাবে দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়,শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হয়। এসব ক্ষেত্রে শর্করা জাতীয় খাদ্য শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।আর এই শর্করা জাতীয় খাদ্য হিসেবে খেজুর খাদ্য শক্তির উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।
  • খেজুর লৌহসমৃদ্ধ ফল হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। রক্তে লৌহিত কণিকার প্রধান উপাদানের অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। খেজুর লৌহসমৃদ্ধ বলে এই রক্তশূন্যতা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
  • খেজুর হৃদরোগ, জ্বর ও পেটের পীড়ায় উপকারী এবং বলবর্ধক ঔষধ হিসেবে কাজ করে ।
  • খেজুরে রয়েছে ৭৭.৫% কার্বহাইড্রেট, যা অন্যান্য খাদ্যের বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করে।
  • ক্ষুধা নিবারণের বিকল্প খাদ্য হিসেবে আমরা ২-৪টি খেজুর খেয়ে এক গ্লাস পানি পান করতে পারি।
  • আয়রনের পরিমাণও রয়েছে খেজুরে। তাই রক্তস্বল্পতা ও শরীরের ক্ষয়রোধ করতে খেজুরের রয়েছে বিশেষ গুণ।
  • পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে খেজুর। এছাড়াও মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধেও এই ফল বেশ কার্যকরী। তাই আমাদের সকলের খেজুরের উপকারিতা জানা ধরকার।

প্রতিদিন সকালে খেজুর কেন খাবেন ? ও জেনে নিন খেজুরের উপকারিতা কি কি?

রোগের প্রকোপ কমায় : প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকার কারণে নিয়মিত এই ফলটি খেলে বাওয়েল মুভমেন্টে মারাত্মক উন্নতি ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনো ধরনের পেটের রোগই আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ৩টি করে খেজুর খেলে শরীরে অন্দরে উপকারী  ব্যাকটেরিয়ায় মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে বদহজম, কোলাইটিস ও হেমোরয়েডের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। তাই আমাদের সকলের খেজুরের উপকারিতা জানা ধরকার।

হাড়ের উন্নতি ঘটে : খেজুরে উপস্থিত খনিজ এবং ভিটামিন হাড়কে এতটাই শক্তপোক্ত করে দেয় যে বয়স্কালে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

অ্যানিমিয়া রোগকে দূরে রাখে : শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলেই মূলত এই ধরনের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই তো শরীরে যাতে এই খনিজটির ঘাটতি কোনও সময় দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এক্ষেত্রে খেজুর দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে? এই ছোট্ট ফলটি আয়রণ সমৃদ্ধি। তাই তো অ্যানিমিয়ার মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভুমিকা নেয়।

অ্যালার্জি কমায় : ২০০২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে দাবি করা হয়েছিল খেজুরে উপস্থিত সালফার কম্পাউন্ড অ্যালার্জির মতো রোগ থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আমাদের সকলের খেজুরের উপকারিতা জানা ধরকার।

হার্টের উন্নতি ঘটে : ডায়াটারি ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরে ‘এল ডি এল’ বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে এতে উপস্থিত পটাশিয়াম আরও সব হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমায়।

ওজন বাড়ায় : নানা কারণে যাদের ওজন মাত্রাতিরিক্ত হারে কমে যেতে শুরু করেছে, তারা আজ থেকেই খেজুর খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। কারণ এই ফলটিতে উপস্থিত ক্যালরি শরীরে ভাঙন রোধ করে ওজন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সংক্রমণের আশঙ্কা হ্রাস : খেজুরে প্রচুর মাত্রায় প্রাকৃতির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা একাধিক রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, এই ফলটিতে বেশ কিছু অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজও রযেছে, ফলে নিয়মিত খেজুর খেলে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও অনেকাংশে হ্রাস পায়। তাই আমাদের সকলের খেজুরের উপকারিতা জানা ধরকার।

খেজুর এর অপকারিতা কি?

খেজুরের অসংখ্য উপকারিতা থাকলেও কিছু কিছু খেজুর গ্রহনে সতর্ক হওয়া উচিত।যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা খেজুর গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন এবং যাদের দেহে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি তার খেজুর খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here