ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা

0
715
ঘরোয়া রূপচর্চা

পরিবেশের প্রভাব,অপুষ্টি,অযত্ন, রোগে আক্রান্ত হওয়া,সময়ের অভাবসহ নানাবিধ কারণে অনেক সময় আমাদের দেহের সৌন্দর্যহানি ঘটে। তবে আগের চেয়ে মানুষ নিজের ফিটনেস এবং সৌন্দর্য নিয়ে এখন বেশ সচেতন। অনেকেই ঘরোয়া রূপচর্চা নিয়মিত করতে অভ্যস্ত। তবে,ভাল মানের পার্লার না হলে এ ধরনের রূপচর্চায় লাভের থেকে ক্ষতি বেশি। বরং,ঘরোয়া উপাদান দিয়ে ঘরোয়া রূপচর্চা নিরাপদ,ফলপ্রসূ এবং সাশ্রয়ী। অনেক সমস্যার সমাধান কিন্তু আপনার হাতের কাছেই রয়েছে।নীচের টিপস গুলো থেকে জেনে নিন আপনার সম্যার সমাধান।

প্রাকৃতিক ভাবে ত্বক উজ্জ্বল করতে

যাদের ত্বক দিনে দিনে বিবর্ণ বা কালচে হয়ে গেছে,তারা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন কাঁচা দুধে তুলা ভিজিয়ে মুখ এবং গলায় মেখে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।এতে,করে ত্বকের বিবর্ন ভাব চলে যাবে। নিয়মিত এই উপাদানটি ব্যবহার করলে প্রাকৃতিকভাবেই উজ্জ্বল হবে ত্বক।

খুশকি দূর করতে

ঘরোয়া রূপচর্চা

খুশকির যন্ত্রণায় যাদের অবস্থা দিশেহারা তারা,৩-৪ টেবিল চামচ টক দইয়ের সাথে ৩-৪ চা চামচ লেবুর রস এবং একটা ডিম ভাল ভাবে মিক্স করে পরিষ্কার শুকনো চুলে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।এই প্যাকটি সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন আর যাদের খুশকি বেশি তারা সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করুন।পাশাপাশি,নিয়মিত এন্টিড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল পরিষ্কার করতে হবে। বাইরে, বের হলে মাথা ঢেকে বের হওয়া ভাল। এতে করে,ধূলাবালি কম লাগে। ঘরোয়া রূপচর্চা

বাদামি স্পট দূর করতে

ঘরোয়া রূপচর্চা

অনেকের মুখে অসংখ্য বাদামি স্পট রয়েছে। যা,স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হলেও সুন্দর মুখশ্রীর জন্য কিছুটা সমস্যার। যাদের মুখে বাদামি স্পট রয়েছে ১-২ চা চামচ টক দই আর কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ৩০-৪৫ মিনিট,এরপর ধুয়ে ফেলুন। এক দিন পর পর অথবা প্রতিদিন এ প্যাকটি লাগাতে পারেন ধীরে ধীরে ত্বকের বাদামী স্পট চলে যাবে। এছাড়া,রোদ এড়িয়ে চলুন,বিশেষ করে সকাল ১১টা-বিকাল ৪ টা পর্যন্ত।

কাল ছাপ দূর করতে

ঘরোয়া রূপচর্চা

যাদের মুখে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোপ ছোপ কাল দাগ পড়েছে তারা,এক দিন অন্তর আলুর রস লাগাতে পারেন।যদি, লেবুতে অ্যালার্জি না থাকে তবে আলুর রসের সাথে ১/২ চা চামচ লেবুর রস খুব ভালভাবে মিক্স করে লাগিয়ে রাখতে হবে।প্রতিদিন বা এক দিন অন্তর প্যাকটি লাগাতে পারেন। ৩০-৪৫ মিনিট রাখতে হবে।

অল্প বয়সে চুল পাকলে

বয়স হলে,চুল পেকে যাবে এটা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কিন্তু নানা কারণে যাদের চুল খুব অল্প বয়সে পেকে যায় তাদের জন্য ব্যাপারটি কিছুটা বিব্রতকর। যাদের চুল অল্প বয়সে পেকে যাচ্ছে তারা একটি মাঝারি বেদানার খোসা,২-৩ চা চামচ বেদানা এবং একটি ছোট আলু ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে চুলে আপ্ল্যাই করুন। ঘরোয়া রূপচর্চা সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক ভাবে কাল থাকবে চুল।

মসৃণ ত্বক পেতে

ঘরোয়া রূপচর্চা

মোলায়েম ত্বক চাইলে তিলের তেলের সাথে কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশয়ে পরিষ্কার ত্বকে লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন।পরদিন সকালে কুসুম গরম পানি এবং ফেস ওয়াস দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।বলি রেখা এবং কুঁচকে যাওয়া ত্বক উভয় সমস্যা দূর হবে।

আকর্ষণীয় হাত পেতে

মেয়েদের ঘরের কাজ,থালা বাসন এবং কাপড় ধোবার কারণে হাত শক্ত এবং অসুন্দর হয়ে যাবার সমস্যা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।যারা,এমন সমস্যাতে ভুগছেন তারা একটি সিদ্ধ গোল আলু চটকে নিয়ে দুই হাতের তালু এবং উপরে খুব ভালোভাবে ৭-৮ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন । এরপর মুছে কয়েক ফোটা অলিভ অয়েল দুই হাতে মেখে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে হাতের ত্বক হবে মসৃণ এবং আকর্ষণীয়।

বডি ডিটক্স করতে

যারা বডিকে টক্সিন মুক্ত করতে চান তারা সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি বিট লবণ এবং ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন।সপ্তাহে ২ দিন খেতে পারেন এই মিশ্রণটি। যাদের, লেবুতে এসিডিটির সমস্যা রয়েছে তারা লেবু বাদ দিয়ে খেতে পারেন।গরম পানি মেটাবলিজম বাড়াতে ভীষণ কার্যকর।খাবার, ৩০ মিনিট পূর্বে ২ গ্লাস কুসুম গরম পানি খেতে পারেন। এতে করে মেটাবলিজম বাড়ার সাথে সাথে দেহ থেকে টক্সিন বের হতে সাহায্য করে।

মাথার ফুসকুড়ি দূর করতে

ঘরোয়া রূপচর্চা

যাদের মাথায় প্রায়ই ফুসকুড়ি দেখা দেয় তারা ১:২ অনুপাতে সাদা ভিনেগার এবং পানি মিশিয়ে চুলে লাগান। অন্তত,১ ঘণ্টা রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।সপ্তাহে ২-৩দিন লাগালে ধীরে ধীরে ফুসকুড়ি চলে যাবে। এছাড়া,মাথার ত্বকে যাতে ময়লা না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত,শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে। যারা,বাইক চালান তারা নিয়মিত হেলমেট পরিষ্কার রাখবেন। পাশাপাশি,চিরুনী,বালিশ,বিছানা,তোয়ালে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ত্বক মসৃণ করতে বেসন :

ত্বক মসৃণ করতে বেসন : ছোলার বেসনে জল দিয়ে  থকথকে করে মাখিয়ে নিতে হবে। তার পর সেগুলো ত্বকে মাসাজ করতে হবে। কিছুক্ষণ রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু বেসন তো আর ত্বকে লাগানোর জন্য বানানো হয়না। তাই রূপ চর্চায় এর ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। 

ত্বকের আর্দ্রতায় ঘি :

ত্বকের আর্দ্রতায় ঘি : ঘি খুব আঠালো বস্তু। এটি ব্যবহার করলে আর্দ্রতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু ঘি তে যে উচ্চমাত্রায় চর্বি রয়েছে তা ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। 

নরম চুল পেতে ডিম :

নরম চুল পেতে ডিম :   খসখসে চুল অনেকেরই পছন্দ না। বিউটিশিয়ানরা বলে থাকেন শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার দিলে চুল নরম হয়।

চুলে ডিম মাসাজ করে তা ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন তাতে চুল নরম হয়। কাচা ডিমের গন্ধ একদম সুখকর না হলেও বহু মেয়েদের এটি ব্যাবহার করে থাকেন। 

আমাদের চুলের গোড়ায় রয়েছে প্রচুর প্রোটিন। আমাদের শরীরে যদি সঠিক পরিমাণে প্রোটিন থাকলে সেটি চুলের গোঁড়াকে শক্ত করে। এতে চুল ভাঙা বা আগা ফাটা কমে যায়।

চুল চকচকে করতে ভিনেগার :

চুল চকচকে করতে ভিনেগার : কুচকুচে কালো লম্বা চুলে মেয়েদের খুব সুন্দর দেখায়। সুন্দর মেয়েদের যখন বর্ণনা দেয়া হয় তখন চেহারার সাথে সাথেই চুলের কথা বলা হয়ে থাকে। 

এক বাটি হালকা গরম জলে ভিনেগার গুলিয়ে তা দিয়ে সপ্তাহে অন্তত একবার চুল ধুলে চকচকে কালো চুল পাওয়া যায়। ভিনিগারে যে পরিমাণ অ্যাসিড রয়েছ তা যা চুলে জমা যেকোনো ময়লা পরিষ্কার করার ক্ষমতা রাখে। তার ফলে চুল চকচক করে। তবে যাদের চুল শুষ্কও তাদের এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। 

লেবুর রস দিয়ে ব্লিচ করা :

লেবুর রস দিয়ে ব্লিচ করা : শরীরের লোম অনেকের অপছন্দ।  তাই হাত, পা ও মুখমণ্ডলের ত্বকের অতিরিক্ত লোম তুলে ফেলেন। অনেকে আবার পাতলা লোম ব্লিচ বা সাদা করেন।

আপনি যদি লেবুর রসে মধু ভাল করে মিশিয়ে লোমের উপর লাগিয়ে ২০ মিনিট সূর্যের আলোতে বসে থাকেন তাহলে লোমের রঙ হালকা হয়। কিন্তু ২০ মিনিট সূর্যের আলোতে বসে থাকলে আপনার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here