ডায়াবেটিস কি ?

0
1205
ডায়াবেটিস কি ?

ডায়াবেটিস কি ?

সাধারণত ডায়াবেটিস এর লক্ষন ও উপসর্গসমূহ

আসলে ডায়াবেটিস কি?ডায়াবেটিস কি একটি বিপাক জনিত রোগ। ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারনে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং পরবর্তীতে তা প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে আসে। সামগ্রিকভাবে এই অবস্থাই ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস কোন সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়। মানবদেহে শক্তির জন্য আমিষ, শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজন হয়। ডায়াবেটিস হলে শর্করা ও অন্যান্য খাবার সঠিকভাবে শরীরে কাজে লাগে না এবং শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে এবং কিছু নিয়মকানুন সুন্দরভাবে মেনে চললে ডায়াবেটিস নামক রোগটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে সু্‌স্থ্যভাবে জীবন অতিবাহিত করা যায়।

সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষন ও উপসর্গসমূহ দেখা যায়:

  • খুব ঘন ঘন প্রস্রাব হবে।
  • শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হবে।
  • পানি পিপাসা বেশি বেশি লাগবে।
  • কিছুক্ষণ পর পর ক্ষুধা পাবে।
  • যেকোনো ধরনের ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দেরী হবে।
  • স্বাভাবিকভাবে খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকবে।
  • দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।
  • নানান রকম চর্মরোগ যেমন খোশ পাঁচড়া, ফোঁড়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।ডায়াবেটিস কি?

ডায়াবেটিস কত প্রকারের হয়?

ডায়াবেটিসের সাধারনত চার(৪) ধরনের হয়। নিম্নে বিভিন্ন ধরনের ডায়াবেটিস সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

টাইপ.১ ডায়াবেটিসঃ সাধারণতঃ ৩০ বৎসরের কম বয়সেই (গড়ে ১০-২০ বৎসর) এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা দেয়। এই ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরী হয় না। এজন্য সু্‌স্থ্য থাকার জন্য এ ধরনের রোগীকে সবসময় ইনসুলিন নিতে হয়। এই রোগীরা সাধারনত কম ওজনের হন।

টাইপ.২ ডায়াবেটিসঃ এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্রিশ(৩০) বৎসরের বেশি হয়ে থাকে। তবে ত্রিশ(৩০) বৎসরের নিচে এই ধরনের রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। এই ধরনের রোগীদের শরীরে কিছু ইনসুলিন তৈরী হয় তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ঠ নয় অথবা রোগীর শরীরে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই দুই ধরনের কারণ একই সাথে দেখা দেয়। সাধারনত এই ধরনের রোগীরা ইনসুলিন নির্ভর নন। এই ধরনের রোগীরা সাধারনত স্থূলকায় হন। খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এবং নিয়িমিতভাবে ব্যয়াম করে টাইপ.২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।

ডায়াবেটিস চিকিৎসা

ওষুধ সেবন

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আর শারীরিক শ্রম ও ব্যায়াম দিয়ে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রক্তের গ্লুকোজ পাওয়া যাচ্ছে না; যারা কোনো স্ট্রেসের মধ্যে আছেন বা জরুরী অবস্থায় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ওষুধ দু’ধরনের আছে- খাবার ওষুধ ও ইনসুলিন। কার জন্য কোনটা প্রযোজ্য সেটা ডাক্তার ঠিক করে দেবেন। তিনি ওষুধের পরিমাণ, সেবনের সময় ও অন্যান্য উপদেশও দেবেন। আবার এ ব্যাপারে একটি কথা দয়া করে মনে রাখবেন, নিজের মতো করে ডায়াবেটিসের কোনো ওষুধ খাবেন না বা ইনসুলিন কমাবেন না বা বাড়াবেন না। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের কোনো বিপদে পড়তে পারেন। সমস্যা হলে আপনার ডাক্তারকে জানান। তিনিই এটির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে বেশকিছু ডায়াবেটিস রোগী একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। এর সঙ্গে শারীরিক শ্রম ও ব্যায়াম করতে হবে। আর এতে কাজ না হলে মুখে খাবার ওষুধ বা ইনসুলিন নিতে হবে। কারও কারও জন্য সবকটি উপায়ই প্রয়োজন হয়।

শৃঙ্খলা

শৃঙ্খলা ডায়াবেটিস রোগীর জীবনকাঠি। রোগীকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। তবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন-

১) নিয়মিত ও পরিমাণমতো সুষম খাবার খেতে হবে,
২) নিয়মিত ও পরিমাণমতো ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম করতে হবে,
৩) চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র সুষ্ঠভাবে মেনে চলতে হবে,
৪) শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে,
৫) পায়ের বিশেষ যত্ন নিতে হবে,
৬) নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হবে এবং ফলাফল প্রস্রাব পরীক্ষার বইতে লিখে রাখতে হবে,
৭) চিনি, মিষ্টি, গুড়, মধুযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব ছাড়তে হবে,
৮) শারীরিক কোনো অসুবিধা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে,
৯) চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো কারণেই ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা বন্ধ রাখা যাবে না,
১০) তাৎক্ষণিক রক্তে শর্করা পরিমাপক যন্ত্র দিয়ে নিজে নিজেই রক্তের শর্করা পরিমাপ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সবচেয়ে ভাল,
১১) রক্তে শর্করা পরিমাপক বিশেষ কাঠি দিয়েও তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের শর্করা পরিমাপ করা যায়। রক্তে তাৎক্ষণিক শর্করা পরিমাপক যন্ত্র এখন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে।

শিক্ষা

ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ। সঠিক ব্যবস্থা নিলে এই রোগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ব্যবস্থাগুলো রোগীকে নিজ দায়িত্বেই মেনে চলতে হবে এবং রোগীর পরিবারের নিকট সদস্যদের সহযোগিতা এ ব্যাপারে অনেক সাহায্য করতে পারে। তাই এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস সম্পর্কে রোগীর যেমন শিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিকটাত্মীয়দেরও এই রোগ সম্পর্কে কিছু জ্ঞান থাকা দরকার। কারণ শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

অন্যান্য সূনির্দিষ্ট কারণের ভিত্তিতে। যেমন-

  • জেনেটিক বা বংশগত কারনে ইনসুলিন তৈরী কম হলে।
  • জেনেটিক বা বংশগত কারনে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে গেলে।
  • নানান ধরনের সংক্রামক ব্যধির কারনে।
  • অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগের কারনে।
  • ঔষধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শে আসলে।
  • অন্যান্য হরমোনের পরিমান বৃদ্ধি পেলে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসঃ

এই ধরনের রোগীরা সাধারনত ক্ষীণকায় এবং অপুষ্টির শিকার হয় এবং ইনসুলিন ছাড়াও অনেক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এই ধরনের রোগীর বয়স সাধারনত ৩০ বৎসরের নিচে হয়ে থাকে। গর্ভবতী অবস্থায় অনেক সময় প্রসূতিদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে কিন্তু প্রসবের পর ডায়াবেটিস আর থাকে না। এই ধরনের জটিলতাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ডায়াবেটিস গর্ভবতী নারী, প্রসূতি কিংবা সদ্য প্রসূত শিশু সকলের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় রোগীকে প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার হতে পারে। আবার, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনও হতে পারে।

 ডায়াবেটিস  কি ?

ডায়াবেটিস নির্ণয়ে পরীক্ষা

যদি ডায়াবেটিস নির্ণয়ে সাধারনত খালি পেটে অর্থাৎ খাওয়ার পূর্বে রক্ত পরীক্ষা, ভরা পেটে অর্থাৎ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্ত পরীক্ষা ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়। তবে, প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোলেস্টরল, থাইরয়েডের কার্যাবলী, যকৃত এবং কিডনী পরীক্ষা করতে হতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

  • যদি ডায়াবেটিস হলে খাদ্যের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্যে নিয়ন্ত্রন আনা সবচেয়ে জরুরি বিষয়। শরীরে খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা ডায়াবেটিস হওয়ার আগে ও পরে একই রকম থাকে। তাই, খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যও ভাল রাখা যায়।
  • ডায়াবেটিস যেহেতু আজীবনের রোগ, তাই সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করলে এই রোগকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ব্যবস্থাগুলি অবশ্যই রোগীকে নিজ দায়িত্বে মেনে চলতে হবে, তবে রোগীর পরিবারের নিকট সদস্যদের সহযোগিতা এ ব্যাপারে রোগীকে অনেক সাহায্য করতে পারে। তাই এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য রোগীর যেমন ডায়াবেটিস সর্ম্পকে ভাল জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, একইভাবে রোগীর নিকট আত্মীয় স্বজনদেরও এই রোগ সর্ম্পকে ধারনা রাখতে হবে।
  • ডায়াবেটিক রোগীদের অবশ্যই খাদ্য, ব্যায়াম এবং শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে, এই দুইটি যথাযথভাবে পালন করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে।
  • টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশনের প্রয়োজন হতে পারে। টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসক শর্করা কমাবার জন্য খাবার বড়ি দিতে পারেন।
  • রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যায়াম বা শরীর চর্চা খুবই গূরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর সু্‌স্থ থাকার পাশাপাশি ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও নি:সরনের পরিমাণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটলে শরীর যথেষ্ঠ সু্‌স্থ থাকবে। শারীরিক অসুবিধা থাকলে, যতটুকু পারা যায় কায়িক পরিশ্রম করতে হবে।

বাড়তি সতর্কতা

  • চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই বাদ দিতে হবে।
  • চাল, আটা এবং মিষ্টি ফল ইত্যাদি কিছুটা হিসেব করে খেতে হবে।
  • ডাল, শাক, সবজি, টক জাতীয় ফল ইত্যাদি আঁশবহুল খাবার বেশী করে খেতে হবে।
  • উদ্ভিজ্জ তেল অর্থাৎ সয়াবিন, সরিষার তেল ইত্যাদি এবং সব ধরনের মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
  • ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে।
  • মাংস, চর্বি, ঘি, মাখন, ডালডা ইত্যাদি ফ্যাট খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে।
  • অন্য কোনও রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

নিয়মিত সতর্কতা

  • নিয়মিত ব্যায়াম বা দৈহিত পরিশ্রম করতে হবে।
  • ডাক্তারের পরামর্শ সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে।
  • শরীর অবশ্যই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
  • নিয়মিত ও পরিমাণ মতো সুষম খাবার খেতে হবে।
  • খাবার হতে চিনি, মিষ্টি, গুড় ও মধুযুক্ত খাবার সম্পূর্ণরুপে বাদ দিতে হবে।
  • ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
  • নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হবে এবং ফলাফল প্রস্রাব পরীক্ষার বইতে লিখে রাখতে হবে
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা বন্ধ রাখা যাবে না।
  • শারীরিক কোন অসুবিধা দেখা দিলে দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • এখন বাজারে তাৎক্ষনিকভাবে রক্তের শর্করা পরিমাপ করার জন্য শর্করা পরিমাপক যন্ত্র পাওয়া যায়। এটা দিয়ে নিজে নিজেই রক্তের শর্করা পরিমাপ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আবার রক্তে শর্করা পরিমাপক বিশেষ কাঠির সাহায্যেও
  • তাৎক্ষনিকভাবে রক্তে শর্করার পরিমান নির্ণয় করা যায়।ডায়াবেটিস-কি

ইনসুলিন গ্রহনের

ট্যাবলেট বা ইনসুলিন গ্রহনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় বেশী হলে, ইনসুলিন ও সিরিঞ্জ একই মাপের না হলে, খুব কম খেলে বা খাবার না খেলে, ইনসুলিন গ্রহনের পরে খুব দেরী করে খাবার খেলে এ সমস্যাগুলো হতে পারে। রক্তে শকর্রার অভাব হলে রোগীকে চা-চামচের ৪ থেকে ৮ চামচ গ্লুকোজ বা চিনি এক গ্লাস পানিতে গুলে খাইয়ে দিতে হবে অথবা গ্লুকোজ ইনজেকশন দিতে হবে এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

অপর্যাপ্ত ইনসুলিন নিলে

অপর্যাপ্ত ইনসুলিন নিলে অথবা ইনসুলিন নির্ভর রোগী ইনসুলিন একেবারেই না নিলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। শরীরে ইনসুলিনের অভাব হলে, ইনসুলিনের অভাবে রক্তের শর্করা শরীরের কোনও কাজে লাগতে পারে না, তখন তাপ ও শক্তির জন্য দেহে সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার হতে থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত ইনসুলিনের অভাবে এই চর্বি অধিক হারে ভাঙ্গার ফলে রক্তে কিছু ক্ষতিকর পদার্থ ও অম্ল বেড়ে যায়, ফলে এসিটোন নামক একটি কিটোন বডি অধিক পরিমাণে বেড়ে গেলে, অম্লতার জন্য রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়। এই অবস্থাকে বলে ডায়াবেটিক কোমা।

প্রস্রাবে শর্করার

প্রস্রাবে শর্করার পরিমাণ খুব বেশী বেড়ে গেলে, খুব বেশী বা ঘন ঘন পিপাসা লাগলে, ঘন ঘন প্রস্রাব হলে, বেশি বেশি ক্ষুধা লাগলে, খুব অসু্‌স্থ বোধ হলে, বমি বমি ভাব হলে, শরীরে দুর্বলতা অনুভুত হলে, ঝিমানো ভাব, শ্বাস কষ্ট হলে, নিঃশ্বাস দ্রুত হলে, প্রচণ্ড মাথা ধরলে, নিস্তেজ অনুভুত হলে ইত্যাদি ডায়াবেটিক কোমার লক্ষণ। এই লক্ষণ গুলি দেখা দিলে শরীরে পানি স্বল্পতা কমানোর জন্য অতিরিক্ত লবণ মিশ্রিত পানি খেতে হবে, ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং প্রস্রাবে কিটোন বডি আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজন মনে করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।ডায়াবেটিস-কি

ডায়াবেটিস কাদের হতে পারে?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই। যে কেউ যে কোন বয়সে যে কোন সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে, যাদের বংশে ডায়াবেটিস আছে, ওজন অনেক বেশী হলে, গর্ভাবস্থায়, যারা কোনও ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করেন না এবং দীর্ঘদিন ধরে কর্টিনোল জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।আসলে ডায়াবেটিস কি?

কিভাবে বুঝবেন আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে?

কিভাবে বুঝবেন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সেটা বোঝার জন্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান ৬.১ মিলিমোল/লিটার থাকে এবং খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে যদি তা ৮.০ মিলি মোল/লিটার পর্যন্ত হয়, তবে বুঝতে হবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে। অপরদিকে খাবারের ২ ঘণ্টা পর, পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমান ১০.০ মিলি মোল/লিটার পর্যন্ত হলে বুঝতে হবে ডায়াবেটিস মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমান এর চেয়ে বেশী হলে বুঝতে হবে ডায়াবেটিন নিয়ন্ত্রণে নেই।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে না থাকলে

যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে না থাকলে হৃদরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, চক্ষুরোগ, পক্ষাঘাত, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা, মুত্রাশয়ের রোগ, প্রস্রাবে আমিষ বের হওয়া, কিডনীর কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া, যক্ষা, মাড়ির প্রদাহ, পাতলা পায়খানা, চুলকানি, ফোঁড়া, যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে অকালে সন্তান প্রসব, জন্মের পর পরই শিশুর মৃত্যু, বেশী ওজনের শিশু হওয়া, মৃত শিশুর জন্ম, অটিজম ইত্যাদি নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। আসলে ডায়াবেটিস কি?

সবশেষে

ডায়াবেটিস রোগটি সারা জীবনের রোগ। এটি কখনোই সম্পূর্ণরূপে সেরে যায় না। তবে সচেতন হলে এবং সুচিকিৎসা গ্রহন করলে এ রোগকে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রায় স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করা যায়।আসলে ডায়াবেটিস কি?

কথায় আছে

কথায় আছে – রোগ বালাই বলে কয়ে আসে না। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। যেকোনো অসুখ মারাত্মক আকার ধারণ করার আগে নানা ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সেসব উপসর্গকে গুরুত্ব সহকারে দেখি না।

ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো যায় না। অথচ সামান্য একটু সচেতনতাই পারে যেকোনো অসুখ প্রকট আকার ধারণ করার আগে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে। এ লক্ষে ই হাসপাতাল নিরসল কাজ করে যাচ্ছে। ডায়াবেটিস কি?

বিভিন্ন অসুখের কারণ

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অসুখের কারণ, লক্ষন ও প্রতিকার নিয়ে সাধারন মানুষকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আপনি চাইলে আপনার কি অসুখ হয়েছে বা হয়ে থাকতে পারে তা আমাদের ব্লগের রোগ ডিরেক্টরি থেকে বের করতেন। অথবা সরাসরি আমাদের কাছে ফোন করতে পারেন এই সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য।ডায়াবেটিস মানে কি?

স্বাস্থ্যসেবা আছে

যেকোনো রোগে সময় স্বাস্থ্যসেবা আছে আপনার হাতের কাছেই! হাসপাতাল প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ হচ্ছে সকল প্রকার স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসা বিষয়ক সুপরামর্শ প্রদান করা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দেওয়া, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, দুর্লভ ঔষধ সমুহের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ই হাসপাতাল।

জরুরী মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য অথবা আপনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here