বাংলাদেশের ১০০ টির ও বেশি দর্শনীয় স্থান বা পর্যটন কেন্দ্র

0
892
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজার

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান সেরা ১০০ টির দর্শনীয় স্থান বা পর্যটন কেন্দ্র ভিতরে প্রথম স্থানে রয়েছে কক্সবাজার। নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জনের মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের নাম কক্সবাজার। অপরূপ সুন্দর বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত এই কক্সবাজার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসে।

কক্সবাজারের পাশাপাশি এখানে ভ্রমণের জন্য আরও রয়েছেঃ লাবণী পয়েন্ট, হিমছড়ি, ইনানী বিচ।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৪১৪ কি.মি. । ঢাকা থেকে কক্সবাজার ৩ উপায়ে যাওয়া যায়ঃ সড়কপথ, রেলপথ, আকাশপথ।

বাসঃ ঢাকা থেকে বেশ অনেক গুলো বাস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। উল্লেখযোগ্য বাস গুলো হলঃ গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সৌদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, এস.আলম পরিবহন, সোহাগ পরিবহন।

ট্রেনঃ সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী ইত্যাদি ট্রেন যাওয়াআসা করে থাকে।

আকাশপথঃ বিমান বাংলাদেশ, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা সহ আরও বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।

সুন্দরবন

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান সেরা ১০০ টি দর্শনীয় স্থান বা পর্যটন কেন্দ্র ভিতরে প্রথম স্থানে রয়েছে সুন্দরবন।বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে সুন্দরবন অবস্থিত। সুন্দরবন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা জুড়ে বিস্তৃত।

সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অখণ্ড বনভূমি! সুন্দরবন এর আয়তন প্রায় ১,৩৯,৫০০ হেক্টর (৩,৪৫,০০০ একর)। সুন্দরবনে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক বেড়াতে আসেন।

সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ ছাড়াও রয়েছে গরান, বাইন গেওয়া ইত্যাদি। আর প্রাণীর ভিতর রয়েছে বাঘ, সিংহ, হরিণ, হাতি, কুমির ইত্যাদি।

সুন্দরবন এ দেখার মত আরও রয়েছেঃ জামতলা সৈকত, মান্দার বাড়িয়া সৈকত, হিরন পয়েন্ট, দুবলার চর।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সুন্দবন যেতে হলে প্রথমে আপনাকে খুলনা যেতে হবে। খুলনায় যাওয়ার জন্য বাস, ট্রেন এবং লঞ্চ ব্যবস্থা রয়েছে। এই তিন উপায়ে আপনি যেতে পারেন।

বাসঃ হানিফ, সোহাগ ও ঈগল পরিবহনের বাস ভোর ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিয়মিত খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে থাকে। খুলনা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে মংলায় গিয়ে সেখান থেকে ছোট লঞ্চ বা ট্রলারে করে সুন্দরবন যেতে হবে।

ট্রেনঃ সুবর্ণ এক্সপ্রেস, কপোতাক্ষ, সাগরদাঁড়ি, চিত্রা এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস।

রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ

ঢাকা থেকে ৩০৮ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটি জেলা অবস্থিত। রাঙ্গামাটি জেলায় ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ হল রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ! ঝুলন্ত ব্রিজ টি কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত। এটি প্রায় ৩৩৫ ফুট লম্বা।

রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ এর একটি বিশেষ নাম রয়েছে সেটি হলঃ সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি। রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ টি বানানোর কারন হচ্ছেঃ এই ব্রিজটি কাপ্তাই লেকের বিচ্ছিন্ন দুই পাড়ের পাহাড়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে দিয়েছে। এই ব্রিজ দিয়ে একপাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে অনায়াসেই যাতায়েত করা যায়।

রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে এসে আপনি আরও যা দেখতে পাবেন তা হলঃ শেখ রাসেল এভিয়ারী এন্ড ইকো পার্ক, শুভলং ঝর্ণা, কাপ্তাই লেক, উপজাতীয় জাদুঘর, ঝুম রেস্তোরা, টুকটুক ইকো ভিলেজ, চিৎমরম গ্রাম ও টাওয়ার, যমচুক…

রাইক্ষ্যং পুকুর, নির্বাণপুর বন ভাবনা কেন্দ্র, ফুরমোন পাহাড়, রাজস্থলী ঝুলন্ত সেতু, রাজবন বিহার, ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজবাড়ি, পেদা টিং টিং, নৌ-বাহিনীর পিকনিক স্পট, ন-কাবা ছড়া ঝর্না, আর্যপুর ধর্মোজ্জ্বল বনবিহার, ডলুছড়ি জেতবন বিহার, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ও কাট্টলী বিল ইত্যাদি।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে আপনি বাসে, ট্রেনে ও আকাশপথে যেতে পারেন। বাস আপনি সরাসরি রাঙ্গামাটি যেতে পারবেন কিন্তু ট্রেনে এবং আকাশপথে আপনাকে প্রথমে চট্টগ্রাম এবং সেখান থেকে রাঙ্গামাটি যেতে হবে।

বাসঃ ঢাকা সায়দাবাদ থেকে রাঙ্গামাটিগামী শ্যামলী, এস আলম পরিবহন, হানিফ পরিবহন, বিআরটিসি পরিবহনের বাস গিয়ে থাকে।

ভাড়া

বাসঃ বাস ভাড়া ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা।

সাজেক ভ্যালি

সাজেক ভ্যালি

বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক ভ্যালি অবস্থিত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসেবে খ্যাত এই সাজেক। রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত এই সাজেক ভ্যালি।

সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতা অবস্থিত। ঢাকা থেকে সাজেক ভ্যালি দূরত্ব প্রায় ৩৫১ কিলোমিটার।

সাজেকে একটা ব্যতিক্রমী ব্যাপার হচ্ছেঃ এখানে ২৪ ঘণ্টায় প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখা পাবেন আপনি। কখনো খুবই গরম, পরেই হটাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যায় মেঘের চাদরে! মনে হয় যেন একটা মেঘের উপত্যকা।

সাজেক ভ্যালিতে দেখার মত আরও রয়েছেঃ রুইলুই পাড়া, কমলক ঝর্ণা, কংলাক পাড়া, হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার।

সেন্টমার্টিন

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত টেকনাফ উপজেলা একটি ইউনিয়ন এই সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত। সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের ইউনিয়ন।

সেন্টমার্টিন এর আয়তন ১৯৭৭ একর (৮ বর্গ কিলোমিটার)। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন এর দূরত্ব ৪০৫ কিলোমিটার আর কক্সবাজার শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার।

এখানে প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক আসেন। সারি সারি নারিকেল গাছ এ দ্বীপকে করেছে অনন্য, যা ভ্রমণ পিয়াসী মানুষকে দুর্নিবার আকর্ষনে কাছে টেনে নেয়।

শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গল কে চা এর রাজধানী বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে শ্রীমঙ্গল অবস্থিত। এর আয়তন ৪২৫.১৫ বর্গকিলোমিটার। শ্রীমঙ্গলে মোট চা বাগানের সংখ্যা ৪০টি।

ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের দূরত্ব প্রায় ১৭৬ কিলোমিটার। সিলেট থেকে শ্রীমঙ্গলের দূরত্ব প্রায় ৮৩ কিলোমিটার।

শ্রীমঙ্গলে দর্শনীয় স্থান গুলো হলঃ বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট, ৪০ টি চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নির্মাই শিববাড়ী।
বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জি, হাইল হাওরে বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, কাছারী বাড়ী (সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয় সংলগ্ন)…

মসজিদুল আউলিয়া, রমেশ রাম গৌড় এর ৭ কালারের চা, শ্যামলী পর্যটন, মাধবপুর লেক, রাবার বাগান, আনারস বাগান, লেবু বাগান, ভাড়াউড়া লেক, রাজঘাট লেক, মাগুরছড়া গ্যাসকূপ, পান পুঞ্জি, ওফিং হিল, বার্নিস টিলার আকাশ ছোয়া সবুজ মেলা, শ্রীমঙ্গলের এক মাত্র ঝর্ণা ‘‘যজ্ঞ কুন্ডের ধারা’’, শতবর্ষের স্মৃতি বিজড়িত শ্রীমঙ্গলে ডিনস্টন সিমেট্রি, মসজিদুল আউলিয়া, টি রিসোর্ট, আরোগ্য কুঞ্জ, হরিণছড়া গলফ কোর্ট, ডলু বাড়ি টিপরা পল্লী, উচু-নিচু পাহাড়।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা স্থাপিত হয়েছে ২৩শে জুন, ১৯৭৪ । পুরো চিড়িয়াখানা ১৮৬ একর জুড়ে বিস্তৃত।

এখানে প্রাণীর সংখ্যা প্রায় ২১৫০টি। প্রজাতির সংখ্যা ১৯১টি। প্রতিবছর চিড়িয়াখানায় ৩,০০০,০০০ জন দর্শনার্থী আসেন।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা নির্দেশনাবলী

  1. চিড়িয়াখানার ঘুরার জন্য চিড়িয়াখানা ঢুকে প্রথমে সোজা যাবেন। একটু সামনে গেলেই দেখতে পাবেন পুরো চিড়িয়াখানার একটি বড় ম্যাপ রয়েছে। সাথে দেখতে পাবেন সামনেই একটি বানরের খাঁচা। বানরের সাথে দেখা করার পর আপনি হাতের বা দিকে যাবেন। 
  2. হাতের বা দিক দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে আপনি আস্তে আস্তে ডান দিকে যাবেন। এভাবে করেই আপনার পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরা শেষ করবেন। চিড়িয়াখানাও এই নিয়ম টা ই দিয়েছে। যাতে আপনি পুরো চিড়িয়াখানার সব গুলো প্রানির দেখা পান।
  3. চিড়িয়াখানার প্রাণীদের খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
  4. হিংস্র প্রানি যেমনঃ বাঘ, সিংহ, সাপ এসব প্রাণীদের খাঁচা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন।
  5. আপনার সাথে যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে, তাদেরকে সব সময় কাছে রাখুন। প্রয়োজনে হাত ধরে রাখুন। কারন, চিড়িয়াখনা অনেক বড় এবং সবসময় এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম থাকে। একবার যদি আপনার বাচ্চা কে হারিয়ে ফেলেন, তাহলে তাকে খুজে পেতে অনেক সময় লাগবে। এর ফলে আপনার আনন্দ ভ্রমন নিরানন্দ হয়ে যাবে।
  6. আর যদি, এরকম সমস্যায় পড়েই যান। তাহলে ঘাবড়ানর কিছু নেই। কারন, চিড়িয়াখানার ভিতরে একদল সদস্য রয়েছে, যারা আপনার সহযোগিতা করার জন্য রেডি হয়ে থাকে সবসময়। আপনি ভিতরে চুকলেই তাদের মাইকের শব্দ পাবেন।
  7. চিড়িয়াখানা ঢুকার পূর্বে সাথে পানি এবং শুঁকন খাবার নিয়ে নিন। কারন, এতো বড় চিড়িয়াখানা ঘুরতে ঘুরতে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তাছাড়া, উচু নিচু যায়গা দিয়েই আপনাকে ভ্রমন করতে হবে।
  8. যতটা সম্ভব খোলামেলা জামাকাপড় পড়ে চিড়িয়াখানা যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ক্লান্তি কম লাগবে।
  9. ভ্রমন উপযোগী জুতা পরার চেষ্টা করুন।
  10. সবসময় আপনার মানিব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আপনার হেফাজতে রাখুন।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার লতাচাপলি ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত। কুয়াকাটা ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এর বিশেষত্ব হচ্ছেঃ আপনি একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সড়কপথে দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার। আর বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে আরও যে দর্শনীয় স্থান রয়েছেঃ শুঁটকি পল্লী, ক্রাব আইল্যান্ড, গঙ্গামতির জঙ্গল, ফাতরার বন, কুয়াকাটা কুয়া, সীমা বৌদ্ধ মন্দি, কেরানিপাড়া।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর

২০ মার্চ, ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এবং ৭ আগস্ট, ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের শাহবাগে অবস্থিত।

জাতীয় জাদুঘরে ৪৪ টি প্রদর্শনী কক্ষ বা গ্যালারি রয়েছে এবং এই সাথে আরও রয়েছে একটি সংরক্ষণাগার, মিলনায়তন, গ্রন্থাগার, আরকাইভ, সিনেস্কেইপ এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনালয়।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর টি প্রতিষ্ঠা করেন লর্ড কারমাইকেল। জাদুঘরে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজারের বেশী দর্শনার্থী পরিদর্শনে করতে আসেন।

জাদুঘরে প্রায় ২০,০০০ বর্গমিটারের চারতলা এই ভবনের ৪৬টি গ্যালারিতে রয়েছে প্রায় ৮৩ হাজারের বেশি নিদর্শন। এছাড়া দক্ষিণ এশীয় দেশের মধ্যে এটিই সর্ববৃহৎ জাদুঘর।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

মৌলভীবাজার জেলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ যে দর্শনীয় স্থানটি রয়েছে সেটি এই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল যেটি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত।

ঢাকা থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এর দূরত্ব প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার। আর, শ্রীমঙ্গল শহর থেকে এর দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।

এই উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এছাড়া চাপালিশ, আগর, জারুল, আউয়াল, আকাশমনি, লোহা কাঠ, সেগুন সহ ১৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ২৪০ প্রজাতির পাখি, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে!

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলো হলঃ খাসিয়াপুঞ্জি, পানের বরজ, চা বাগান, ঝিরি, চা-বাগান, উচু-নিচু টিলা, আনারস, লিচু ও লেবু বাগান।

মইন ঘাট (মিনি কক্সবাজার)

ঢাকার দোহারে অবস্থিত মৈনট ঘাট ইংরেজিতেঃ Moinot Ghat। পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশির দেখে আপনি অবাক দৃষ্টি তে তাকিয়ে থাকবেন। ঢাকার দোহারের এই মইন ঘাট কে মিনি কক্সবাজার নামে ডাকা হয়ে থাকে।

মইন ঘাটের আশেপাশে আরও দর্শনীয় স্থান গুলো হলঃ উকিলবাড়ি, নবাবগঞ্জের জজবাড়ি, আনসার ক্যাম্প, খেলারাম দাতার বাড়ি।

খৈয়াছড়া

সীতাকুণ্ডের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণাগুলোর মধ্যে অন্যতম এই খৈয়াছড়া ঝর্ণা যাকে ইংরেজিতে বলা হয়ঃ Khoiyachora Waterfall ।

ঢাকা থেকে খৈয়াছড়া দূরত্ব প্রায় ২১৬ কিলোমিটার। আপনি এখানে ঝর্ণার নয়টি ধাপ ও নান্দনিক সৌন্দর্য্য দেখে অবাক হবেন।

খৈয়াছড়া ঝর্ণার আশেপাশে দর্শনীয় স্থান গুলো হলঃ কমলদহ ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, সহস্রধারা ঝর্ণা, ঝরঝরি ঝর্ণা।

তাজহাট জমিদার বাড়ি

রংপুর শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে মাহিগঞ্জের তাজহাট গ্রামে এই তাজহাট জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। ঢাকা থেকে তাজহাট জমিদার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ২৯৮ কিলোমিটার।

বর্তমানে তাজহাটে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়িটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ টি একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তৎকালীন প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় করে মান্নালাল ১৯১৭ সালে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।

জমিদার বাড়িতে দেশের দর্শনার্থীর প্রবেশের টিকেট মূল্য ১০০ টাকা এবং বিদেশীদের প্রবেশ টিকেটের মূল্য ২০০ টাকা।

ফয়েজ লেক

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলস্টেশন এর অদূরে খুলশি এলাকায় অবস্থিত একটি কৃত্রিম হ্রদ যা এই ফয়েজ লেক। ঢাকা থেকে ফয়েজ লেক দূরত্ব প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার। আর, চট্টগ্রামের জিরো পয়েন্ট থেকে ৮ কিলোমিটার।

৩৩৬ একর জমি উপর এই ফয়েজ লেক অবস্থিত। ফয়েজ লেকে প্রবেশ মূল্যঃ ২৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক

বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলাধীন মাওনা ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক অবস্থিত। ঢাকা থেকে এই সাফারি পার্ক এর দূরত্ব প্রায় ৪৪ কিলোমিটার।

পুরো বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, সাফারি কিংডম, কোর সাফারি পার্ক, বায়োডাইভার্সিটি পার্ক, এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক নামক ৫ টি অংশে বিভক্ত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক ৩৬৯০ একর জমির বিস্তৃত। এখানে রয়েছে চিত্রা হরিণ, জলহস্তী, হনুমান, ভল্লুক, গয়াল, বাঘ, সিংহ, হাতি, সাম্বার, মায়া হরিণ, বানর, কুমির ও বিচিত্র পাখী।

বান্দরবান

বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলার মধ্যে একটি এই বান্দরবান। ঢাকা থেকে বান্দরবানের দূরত্ব প্রায় ৩৯১ কিলোমিটার।

বান্দরবানের দক্ষিণ-পশ্চিমে কক্সবাজার, উত্তর-পশ্চিমে চট্রগ্রাম জেলা, উত্তরে রাঙামাটি ও পুর্বে মায়ানমার। বান্দরবানে রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান। বান্দরবান জেলার মোট আয়তন ৪৪৭৯.০৩ বর্গ কিলোমিটার।

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে ষাট গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। এটি একটি প্রাচীন মসজিদ। ঢাকা থেকে ষাট গম্বুজ মসজিদ এর দূরত্ব প্রায় ২৬৬ কিলোমিটার।

খান-ই-জাহান আলী ১৫০০ শতাব্দীতে ষাট গম্বুজ মসজিদ টি নির্মাণ করেছেন বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

৮১ টি গম্বুজ বিশিষ্ট হলেও এটিকে ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে নামকরন করা হয়।

ষাট গম্বুজ মসজিদ এর আশেপাশে দর্শনীয় স্থান হলঃ বাগেরহাট জাদুঘর, খান জাহান আলীর মাজার, মংলা বন্দর, নয় গম্বুজ মসজিদ।

সোনারগাঁও

সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। ঢাকা থেকে সোনারগাঁও এর দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার। অবস্থান ঢাকা থেকে দক্ষিণ পূর্ব দিকে।

একসময় সোনারগাঁও কে স্বর্ণগ্রাম বা সুবর্ণগ্রাম নামে অভিহিত করা হত। এটি বঙ্গের এক প্রাচীন জনপদ যেখানে, স্বর্ণভূষিত জাতি নামে আদিম জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল।

একসময় ঈশা খাঁর রাজধানী ছিল এই সোনারগাঁও। সোনারগাঁও এর নামকরণও করা হয় ঈশা খাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামে।

সোনারগাঁও এর উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান সমূহ হচ্ছে, পাঁচবিবির মাজার, সোনাবিবির মাজার, গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের সমাধি, ইব্রাহীম দানিশমান্দ-এর দরগা, শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, পানাম নগর, সংগ্রাম ভাস্কর্য, সোনারগাঁও গ্রন্থাগার, জামদানি শাড়ি বিক্রয় কেন্দ্র।

শালবন বৌদ্ধ বিহার

বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন শালবন বৌদ্ধ বিহার কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে অবস্থিত। কুমিল্লা জেলার ১২শ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত লালমাই ময়নামতি প্রত্নস্থলের অনেকগুলো প্রাচীন স্থাপনার মধ্যে বৌদ্ধ বিহার একটি।

ময়নামতিতে খনন করে যতগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে তার ভিতরে শালবন বিহার অন্যতম। কুমিল্লা বার্ড এবং লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থিত।

শালবন বিহার এর নামকরন করা হয়েছে শাল গজারির ঘন বন এর কারনে।

শালবন বৌদ্ধ বিহার এর আশেপাশে দর্শনীয় স্থান সমূহ, ময়নামতি জাদুঘর, ময়নামতি প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর, বিশ্বযুদ্ধের ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, লালমাই পাহাড়, ব্লু-ওয়াটার পার্ক, কুটিলা মুড়া, ভোজ বিহার, কুমিল্লা বার্ড।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ

বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঢাকার সাভারে অবস্থিত। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে সাভার উপজেলায় ৪৪ হেক্টর জায়গা নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে স্মৃতি সৌধ কমপ্লেক্স।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে জাতির শ্রদ্ধা নিবেদনের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে এই জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের দশটি গণকবর রয়েছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ নকশা প্রণয়ন করেছেন স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

বাংলার তাজমহল

তাজমহল বাংলাদেশ বা বাংলার তাজমহল বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এর জামপুর ইউনিয়নের পেরাব গ্রামে অবস্থিত।

তাজমহল ১৮ বিঘা জায়গার উপর নির্মিত যা ভারতের আগ্রায়অবস্থিত একটি মুঘল নিদর্শন। বাংলার তাজমহল নির্মাণ করেছেন আহসানুল্লাহ মনি যিনি একজন চলচিত্র নির্মাতা।

বাংলার তাজমহল তৈরী করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৫ বছর আর এর নির্মান খরচ ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার!

তাজমহলটি তৈরী করা হয়েছে মার্বেল পাথর, হীরা এবং ব্রোঞ্জ দিয়ে। এই উপকরণ গুলো আনা হয়েছিল ইতালী এবং বেলজিয়াম থেকে।

তাজমহল প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এর প্রবেশ ফি জনপ্রতি ৫০ টাকা।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

সিলেট এর মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় কাঁঠালতলিতে অবস্থিত একটি ইকোপার্ক যার নাম মাধবকুন্ড জলপ্রপাত বা মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত প্রায় ১৬২ ফুট উঁচু। ঢাকা থেকে মাধবকুন্ড এর দূরত্ব প্রায় ২৫৮ কিলোমিটার। সিলেট শহর থেকে এর দূরত্ব ৭২ কিলোমিটার এবং মৌলভীবাজার জেলা থেকে ৭০ কিলোমিটার।

মাধবকুন্ড এর আশেপাশে দর্শনীয় স্থান সমূহ হল, পরিকুন্ড ঝর্ণা, চা বাগান, খাসিয়া পল্লী, কমলা, লেবু, সুপারী ও পানের বাগান, লাউয়াছড়া উদ্যান, হামহাম ঝর্ণা, বাইক্কা বিল, মনিপুরী পল্লী, মাধবপুর চা বাগান ও লেক, নবাব বাড়ি, হাকালুকি হাওর।

মাধবপুর লেক

সিলেট এর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় মাধবপুর লেক অবস্থিত। মাধবপুর লেক এর আয়তন দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং এটি ৫০ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত।

লেক এর প্রস্থ স্থান বিশেষে ৫০ হতে ৩০০ মিটার পর্যন্ত। মাধবপুর লেক প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে সন্ধ্যা ৬টা খোলা থাকে। আর এই লেক তৈরি করা হয় ১৯৬৫ সালে।

ঢাকা থেকে মাধবপুর লেক এর দূরত্ব প্রায় ১৯২ কিলোমিটার।

সীতাকুন্ড

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলার নাম সীতাকুন্ড। ঢাকা থেকে সীতাকুন্ড এর দূরত্ব প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার।

সীতাকুণ্ড উপজেলার আয়তন প্রায় ২৭৩.৪৭ বর্গ কিলোমিটার।

সীতাকুণ্ড উপজেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ হল, ঝরঝরি ঝর্ণা, কমলদহ ঝর্ণা, চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দির, সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, কুমিরা ঘাট।

খানজাহান আলীর মাজার

খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় হযরত খান জাহান আলীর (র:) মাজার অবস্থিত। বাগেরহাট জেলা যে কয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন যাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সুপরিচিতি লাভ করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হযরত খান জাহান আলী (র:)।

ঢাকা থেকে খানজাহান আলীর মাজার এর দূরত্ব প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার। খানজাহান আলী বাগেরহাটের বিখ্যাত ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন।

খানজাহান আলীর মাজার এর পাশাপাশি এখানে রয়েছে খানজাহান আলীর দীঘি। প্রতি বছর খান জাহান আলীর মাজার দেখার জন্য, ওরশ এবং মেলায় সারাদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত এসে সমবেত হন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর

বাংলাদেশ এর ঢাকার আগারগাঁও এর বেগম রোকেয়া সরণী তে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর অবস্থিত। ১৯৮৭ সালের জুন এর ১৭ তারিখে স্থাপিত এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে বিমান বাহিনী জাদুঘরটি শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর উদ্বোধন করেন ইয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী এবং জাদুঘরটির মালিক বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। এটি বাংলাদেশের প্রথম বিমান জাদুঘর।

এখানে মূলত বিভিন্ন সময়ের হেলিকপ্টার ও বিমান দিয়েই এই জাদুঘর সাজানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ গুলো হল, বলাকা, এয়ার টুওরার, পিটি-৬, ফুগাসি এম-১৭০, গ্লাইডা, এয়ারটেক কানাডিয়ান ডিএইচ ৩/১০০০, হান্টার বিমান।

এছাড়া এখানে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে পার্ক এবং রাইডের ব্যবস্থা।

জাদুঘরটি সোম থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং শুক্র থেকে শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। সাধারণে জন্য ৪০ টাকা মূল্যের টিকেট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করা যায়।

চাঁদপুর মোহনা

চাঁদপুর জেলার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে বিশেষ ভ্রমণ স্থান পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া তিন নদীর মিলনস্থল চাঁদপুর মোহনা।

ঢাকা থেকে চাঁদপুর মোহনা এর দূরত্ব প্রায় ৯৮ কিলোমিটার। চাঁদপুর মোহনায় এখানে আপনি একজায়গায় বসে তিন নদীর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া এই তিন নদীর মিলনস্থল কে চাঁদপুর মোহনা বলা হয়ে থাকে।

চাঁদপুর মোহনার আশেপাশে আপনি আরও দেখতে পাবেন, চাঁদপুর অঙ্গীকার, জেলা ব্র্যান্ডিং পর্যটন কেন্দ্র, ইলিশ ভাস্কর্য, ইলিশ চত্বর, রক্তধারা স্মৃতিসৌধ, চাঁদপুর ব্রিজ।

আহসান মঞ্জিল

বাংলাদেশের পুরান ঢাকার ইসলামপুরের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে আহসান মঞ্জিল অবস্থিত। নওয়াব আবদুল গনি ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে আহসান মঞ্জিল নির্মাণ করেন। আহসান মঞ্জিল এর নামকরণ করা হয় তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ-র নামানুসারে।

ঢাকা থেকে আহসান মঞ্জিল এর দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। ঢাকা শহরের প্রথম ইট-পাথরের তৈরি স্থাপত্য নিদর্শন হিসাবে আহসান মঞ্জিলকে ধরা হয়। আহসান মঞ্জিলের রংমহলের ২৩ টি কক্ষে ৪ হাজার ৭৭ নিদর্শন রয়েছে।

মহাস্থানগড়

বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি এবং ইতিহাসে পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর নামে পরিচিত এই মহাস্থানগড়।

ঢাকা থেকে মহাস্থানগড় এর দূরত্ব প্রায় ২০৮ কিলোমিটার। আপনি জানেন কি? মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল!

বাংলাদেশের বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় এই ৪০০০ বছর পুরাতন স্থাপনা মহাস্থানগড় অবস্থিত।

বিছানাকান্দি

বাংলাদেশের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় রুস্তমপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মধ্যে এই বিছনাকান্দি অবস্থিত।

ঢাকা থেকে বিছানাকান্দি এর দূরত্ব প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার। বিছনাকান্দি হচ্ছে একটি পাথর কোয়ারী। এরকম আরেকটি পাথর কোয়ারী হল সিলেটের জাফলং।

পানাম নগর

নারায়ণগঞ্জ জেলার, সোনারগাঁতে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর এর নাম পানাম নগর যা পানাম সিটি নামেও পরিচিত।

সোনারগাঁ ২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই পানাম নগরী। এটা হারানো নগরী হিসাবেও সুপরিচিত।

ঢাকা থেকে পানাম নগর এর দূরত্ব প্রায় ৪৩ কিলোমিটার। পানাম নগর এর আশেপাশে দর্শনীয় স্থান গুলো হল, লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, গোয়ালদি মসজিদ, বড় নগর, খাস নগর।

মহেরা জমিদার বাড়ি

বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে একটি হচ্ছে এই মহেরা জমিদার বাড়ি।

ঢাকা থেকে মহেরা জমিদার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৬৬ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার। মহেড়া জমিদার বাড়ি আট একর জায়গা জুড়ে।

রাতারগুল সিলেট

বাংলাদেশের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল অবস্থিত।

ঢাকা থেকে রাতারগুল এর দূরত্ব প্রায় ২৫৩ কিলোমিটার এবং সিলেট শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার।

রাতারগুল বনটি প্রায় ৩০,৩২৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। রাতারগুল কে ‘সিলেটের সুন্দরবন’ নামেও ডাকা হয়।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

খাগড়াছড়ি

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি পার্বত্য জেলার নাম খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি এর দূরত্ব প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার এবং চট্রগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি এর দূরত্ব প্রায় ১০.৫ কিলোমিটার।

খাগড়াছড়ি জেলার দর্শনীয় স্থান গুলো হল, কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদ, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝর্ণা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক (ঝুলন্ত ব্রীজ), মং রাজবাড়ি, গুইমারা, পুরাতন চা বাগান, দেবতার পুকুর, সিন্ধুকছড়ি পুকুর, বৌদ্ধ মন্দির, রামগড় জঙ্গল, রামগড়, পাহাড় ও টিলা, লক্ষ্মীছড়ি জলপ্রপাত, স্বার্থক, শান্তিপুর অরণ্য কুঠির, বিডিআর স্মৃতিসৌধ, রামগড়, হাতিমাথা পাহাড়: পাহাড়িরা একে এ্যাডোশিরা মোন বলে। এ্যাডো শব্দের মানে হাতি আর শিরা মানে মাথা।, পানছড়ি রাবার, ড্যাম, খাগড়াছড়ি গেইট, তৈদুছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রীজ, মায়াবিনী লেক, ভাইবোনছড়া, মাটিরাঙ্গা জলপাহাড়, শতবর্ষী বটগাছ, মাটিরাঙ্গা।

নাটোর রাজবাড়ী

বাংলাদেশের নাটোর সদর উপজেলায় অবস্থিত নাটোর রাজবাড়ী যা নাটোর রাজবংশের একটি স্মৃতিচিহ্ন।

ঢাকা থেকে নাটোর রাজবাড়ী এর দূরত্ব প্রায় ২০২ কিলোমিটার।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি

ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার এবং সনেট করিতার জন্য বিখ্যাত মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি যশোর জেলার কেশবপুরে অবস্থিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

মধুপল্লিতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ভাস্কর্য, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ির বাক্স, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি, পাথরের গামলা ইত্যাদি রয়েছে।

মধুটিলা ইকোপার্ক

বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিবেশ উদ্যান হিসেবে মধুটিলা ইকোপার্ক গড়ে উঠেছে।

ঢাকা থেকে মধুটিলা ইকোপার্ক এর দূরত্ব প্রায় ১৮১ কিলোমিটার এবং শেরপুর জেলা থেকে ৩০ কিলোমিটার। মধুটিলা ইকোপার্ক এর আয়তন ৩৮৩ একর।

মধুটিলা ইকোপার্কে শোভাবর্ধনকারী ও বিরল প্রজাতির বৃক্ষের বনায়নের পাশাপাশি আছে রয়েছে বিশ একরের ঔষধি বৃক্ষের বনায়ন। তাছাড়া আরও রয়েছে রেস্ট হাউজ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, স্টার ব্রিজ, বাসগৃহ, বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি, পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট এবং বসার স্থান।

তাজিংডং

বাংলাদেশের বান্দরবন জেলার রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নের সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত এই তাজিংডং।

ঢাকা থেকে তাজিংডং এর দূরত্ব প্রায় ৩২৪ কিলোমিটার এবং বান্দরবন থেকে ৫০ কিলোমিটার আর রুমা উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার।

তাজিংডং পর্বতের উচ্চতা ১,২৮০ মিটার বা ৪১৯৮.৪ ফুট। এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। আগে কেওক্রাডংকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মনে করা হত, তবে এখন আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

লালবাগ কেল্লা

বাংলাদেশের ঢাকার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় লালবাগ কেল্লা অবস্থিত।

ঢাকা থেকে লালবাগ কেল্লার দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র যুবরাজ শাহজাদা আজম লালবাগ কেল্লার কাজ শুরু করেন।

লালবাগ কেল্লা প্রবেশ করতে জনপ্রতি ১০ টাকায় টিকেট কাটতে হয় আর বিদেশী পর্যটকদের টিকেট জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা।

লালবাগ কেল্লা সপ্তাহের রবি ও সোমবার যথাক্রমে পূর্ণ ও অর্ধ দিবসের জন্য লালবাগ কেল্লা বন্ধ থাকে।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে সোমপুর মহাবিহার নামে পরিচিত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত।

ঢাকা থেকে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এর দূরত্ব প্রায় ২৪৭ কিলোমিটার।

ধর্মপালদেব ৯ম শতকে এই বৌদ্ধ বিহার তৈরি করেন। আর ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম ঐতিহাসিক স্থাপনাটি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে তালিকাভুক্ত করে। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রায় ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের ধর্মচর্চার কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত ছিল।

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ

বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ অবস্থিত। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ স্থাপন করেন তানভীর করিম।

ঢাকা থেকে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ দূরত্ব প্রায় ২৮০ কিলোমিটার। ২৩ টি ত্রিভূজাকৃতি দেয়ালের সমন্বয়ে স্মৃতিসৌধ গঠিত। যা বৃত্তাকার উপায়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে।

রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি

বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় শিলাইদহ বা রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর স্মৃতি বিজড়িত এই রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি।

ঢাকা থেকে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি দূরত্ব প্রায় ১৭৯ কিলোমিটার। রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির পাশদিয়ে পদ্মা নদী বয়ে গেছে।

নুহাশ পল্লী

বাংলাদেশের গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে নুহাশ পল্লী অবস্থিত।

ঢাকা থেকে নুহাশ পল্লীর দূরত্ব প্রায় ৪৮ কিলোমিটার।

নুহাশ পল্লীর আয়তন প্রায় ৪০ বিঘা। নুহাশ পল্লী মূলত হুমায়ূন পুত্র নুহাশের নামানুসারে নুহাশ পল্লী নামকরণ করা হয়। নুহাশ পল্লীর প্রতিটি স্থাপনায় মিশে আছে গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের স্পর্শ এবং ভালোবাসা।

ছেঁড়া দ্বীপ

বাংলাদেশের প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছেঁড়া দ্বীপ অবস্থিত। স্থানীরা এই দ্বীপ কে ছেঁড়াদিয়া’ বা ‘সিরাদিয়া’ ডাকে।

ঢাকা থেকে ছেঁড়া দ্বীপ এর দূরত্ব প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার। ছেঁড়া দ্বীপ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পাথর, প্রবাল এবং নারিকেল গাছে পরিপূর্ণ।

টেকনাফ

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা এই টেকনাফ। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা এটি।

ঢাকা থেকে টেকনাফ এর দূরত্ব প্রায় ৪৪৮ কিলোমিটার আর চট্রগ্রাম থেকে প্রায় ১৯৩ কিলোমিটার।

টেকনাফ এর আয়তন প্রায় ৩৮৮.৬৮ বর্গ কিলোমিটার।

চিম্বুক পাহাড়

বাংলাদেশের বান্দরবান সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রের থেকে ২৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই চিম্বুক পাহাড়।

ঢাকা থেকে চিম্বুক পাহাড় এর দূরত্ব প্রায় ৩৩৪ কিলোমিটার। চিম্বুক পাহাড় কে বাংলার দার্জিলিং বলা হয়ে থাকে। এই পাহাড় থেকেই সূর্যোদ এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়।

স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট

বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে প্রায় ৪০০ একর ভূমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে এই স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট।

ঢাকা থেকে স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট এর দূরত্ব প্রায় ৩০৯ কিলোমিটার। দিনাজপুর থেকে দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার।

স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পটে আরও দেখতে পাবেন, কৃত্রিম লেক, পাহাড়, উদ্যান, বৈচিত্র্যপূর্ণ গাছগাছালি এবং ফুলের বাগান, ডাকবাংলো, বাজার, বিভিন্ন প্রতিকৃতি, শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম ঝর্ণা, ইটখলা, ঘোড়ার রথ, শালবাগান, কৃত্রিম পশুপাখি, ফুলবাগিচা, হংসরাজ সাম্পান, খেলামঞ্চ, নামাজ জায়গা, কুঞ্জ, বিভিন্ন ভাস্কর্য, মাটির কুটির এবং ভূমিতে নির্মিত বাংলাদেশের মানচিত্র।

ভিন্ন জগত রংপুর

বাংলাদেশের রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার গঙ্গীপুরে এই ভিন্ন জগত অবস্থিত। ভিন্ন জগতে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম প্লানেটেরিয়াম।

ঢাকা থেকে ভিন্ন জগত এর দূরত্ব প্রায় ৩৪২ কিলোমিটার।

প্লানেটেরিয়ামে জানতে পারবেন ‘মহাবিস্ফোরণ বা বিগব্যাং’-এর মাধ্যমে পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস।

তেতুলিয়া জিরো পয়েন্ট

বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া উপজেলার ১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে বাংলাদেশ মানচিত্রের সর্বোত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা জিরো (০) পয়েন্ট বা তেতুলিয়া জিরো পয়েন্টটি রয়েছে।

ঢাকা থেকে তেতুলিয়া জিরো পয়েন্ট এর দূরত্ব প্রায় ৪৭৬ কিলোমিটার।

বাংলাদেশের সেরা পর্যটন কেন্দ্র

অপরূপ সৌন্দর্যের এই দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ঘুরে বেড়ানোর জন্য প্রতিবছর ভিড় জমিয়ে থাকেন। প্রাচীন স্থাপনা, পাহাড়ে-আহারে, নদীতে নৌকা ভ্রমণ, সবুজের মাঝে জ্যোৎস্নার খেলা, এমনকি মেঘের রাজ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলার মতো চোখ জুড়ানো পর্যটন স্থান রয়েছে।

সেন্টমার্টিন : 

সেন্টমার্টিন হলো বিশ্বের অন্যতম বড় প্রবাল দ্বীপ। অপূর্ব সুন্দর জায়গা সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ডাবের জন্য বিখ্যাত। আপনি সেন্টমার্টিনে পাবেন সুমিষ্ট ডাবের পানি আর শাঁস। এখানে মাছধরাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীকে উত্তেজিত করতে পারেন।

রাঙামাটি : 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা রাঙামাটি। কাপ্তাই লেকের বুকে ভেসে থাকা ছোট্ট এর জেলা শহর আর আশপাশে সর্বত্রই রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় স্থান। এখানকার জায়গাগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সাজে। তবে বর্ষার সাজ একেবারেই অন্যরূপ।

খাগড়াছড়ি :

সৃষ্টিকর্তা অপার সৌন্দর্যে সাজিয়েছেন খাগড়াছড়িকে। এখানে রয়েছে আকাশ-পাহাড়ের মিতালি, চেঙ্গি ও মাইনি উপত্যকার বিস্তীর্ণ সমতল ভূভাগ ও উপজাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা। যেদিকেই চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। ভ্রমণবিলাসীদের জন্য আদর্শ স্থান।

সিলেট :

বাংলাদেশের যে কয়েকটি অঞ্চলে চা-বাগান পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে সিলেট অন্যতম। সিলেটের চায়ের রং, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। রূপকন্যা হিসেবে সারা দেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং।

বিছানাকান্দি : 

সিলেটের পর্যটন স্বর্গ। দেশের সীমান্তঘেরা পাথরের বিছানা ও মেঘালয় পাহাড় থেকে আসা ঠাণ্ডা পানি। পাশেই পাহাড়ি সবুজের সমারোহ। ছোট বড় পাথরের ওপর দিয়ে ছুটে আসা স্বচ্ছ পানির স্রোতধারা বিছানাকান্দিতে সৃষ্টি করেছে এক মনোরম পরিবেশ।

ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক : 

ঢাকা জেলার সবচেয়ে কাছের দর্শনীয় স্থান এই ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক। শাল। জীববৈচিত্র্যে ভরা এই পার্ক। প্রায় ২২০ প্রজাতির গাছ, ১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫ প্রজাতির পাখি ও ৫ প্রজাতির উভচর প্রাণীও রয়েছে এখানে।

রঙরাং :

রঙরাং পাহাড়ের চূড়ায় না উঠলে রাঙামাটির সৌন্দর্য অপূর্ণ থেকে যাবে। পাহাড়ের কোলঘেঁষে বয়ে গেছে মোহনীয় কর্ণফুলী। কর্ণফুলীর পাশে বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলায় এর অবস্থান। চারপাশের এমন সব সৌন্দর্য চোখের সামনে চলে আসবে যদি রঙরাং চূড়ায় উঠতে পারেন!

বান্দরবানের বোল্ডিং খিয়াং

বান্দরবানের মংপ্রু পাড়ায় ঝরনাটির অবস্থান। দুই বিশাল পাহাড়কে পাহারায় রেখে পাথুরে জলের ধারা বয়ে দিচ্ছে এই ঝরনা। পাহাড়ের চূড়ায় উঠতেই বদলে যাবে দৃশ্যপট। ঝরনাগুলো পুরো এলাকাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে সাদাটে কুয়াশার চাদরে।

চর কচ্ছপিয়া :

ভোলা জেলার চরফ্যাশনের গোসাইবাড়ি ঘাটে খালটির অবস্থান। খালে নৌকাতে ছুটে চলা আর পাশেই সবুজের খেলা অপরূপ এক দৃশ্য। শীতকালে মেলে হরিণ ও বাহারি পাখির মেলা।

তেঁতুলিয়া :

 হিমালয়ের কোলঘেঁষে বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া। সমতল ভূমির চা-বাগান, তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলো, তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার, বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

ইদ্রাকপুর দুর্গ :

মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন। মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে রক্ষার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই দুর্গটি।

ঠাকুরগাঁও :

মোগল আমলের স্থাপত্যকীর্তি লালবাগের কেল্লা। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে তৈরি এই কেল্লাতে রয়েছে পরীবিবির মাজার, দরবার গৃহ, হাম্মামখানা, মসজিদ, দুর্গ ইত্যাদি। বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে লালবাগ কেল্লার অবস্থান।

নীলগিরি :

নীলগিরি

নীলগিরি দেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র। বান্দরবানের থানচি উপজেলায় এর অবস্থান। মেঘের সঙ্গে মিতালি করে এখানে মেঘ ছোঁয়ার সুযোগ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরিতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অপরূপ।

নীলাচল ও শুভ্রনীলা : 

বান্দরবান জেলার প্রবেশমুখেই অবস্থিত। ১৭০০ ফুট উচ্চতার এই পর্যটনস্থানগুলোতে সবসময়ই মেঘের খেলা চলে। এ পাহাড়ের ওপর নির্মিত এ দুটি পর্যটনকেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য দেখতে খুবই মনোরম।

চলনবিল :

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এটি। বর্ষার সুন্দরী বলা চলে ৩ জেলাজুড়ে বিস্তৃত বিলকে। বর্ষায় কানায় কানায় পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে রূপের পসরা সাজিয়ে বসে।

শুভলং ঝরনা :

রাঙামাটি জেলার সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় জায়গাগুলোর মধ্যে শুভলং ঝরনা একটি। এই ঝরনা দেখতে সর্বক্ষণ পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে ঝরনাটি পতিত হয়েছে কাপ্তাই লেকে। শুভলংয়ের কাছে যেতে বাধা নেই, ফলে ঝরনার রূপ মাধুর্য প্রাণভরে উপভোগ করা যায়।

আহসান মঞ্জিল :

 বুড়িগঙ্গার পাড়ঘেঁষে কুমারটুলী এলাকায় প্রাচীন এই সাম্রাজ্যের অবস্থান। মঞ্জিলটি রংমহল ও অন্দরমহল দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রাসাদটির উপরে অনেক সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে। এ ছাড়া একটি জাদুঘরও রয়েছে এখানে।

মহাস্থানগড় :

 ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পুরাকীর্তিটি বগুড়ায় অবস্থিত। পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল বর্তমান বগুড়া মহাস্থানগড়। মৌর্য, গুপ্ত, পাল এবং সেন আমলেও বগুড়ার বিশেষ প্রশাসনিক গুরুত্ব ছিল। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে এটির অবস্থিত।

সোমপুর মহাবিহার :

সোমপুর মহাবিহার পাহাড়পুর বিহারে অবস্থিত। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে বৌদ্ধবিহার হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। এটা পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত গন্তব্য। কারণ এটি অনন্য স্থাপত্য। এই স্থান পরিদর্শন করেন বেশির ভাগ ভারতীয়।

বাংলার তাজমহল :

বিভিন্ন কারণে সোনারগাঁ বিখ্যাত। কালের বিবর্তনে এখানে বিশ্বের প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য আগ্রার তাজমহলের আদলে সোনারগাঁয়ের পেরাব গ্রামে নির্মাণ করা হয়। স্থাপত্যে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বাংলার তাজমহল।

প্রাচীন সোনারগাঁ : 

ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে এই মোগল সাম্রাজ্যটির অবস্থান। এখানে রয়েছে পাঁচ পীরের দরগা, প্রাচীন পানাম নগরী, নীলকুঠিসহ আরও অনেক প্রাচীন স্থাপনা।

লাউয়াছড়া বন :

ঘন জঙ্গলের বুক চিরে চলে গেছে পাহাড়ি রাস্তা। দুই পাশে সারি সারি গাছ। তার মধ্য দিয়ে মধ্যদুপুর কিংবা সোনাঝরা সকাল অথবা বিকালের নরম আলো লাউয়াছড়াকে করেছে আরও মোহনীয়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই বন।

রাজবন বিহার

রাঙামাটির জেলার বেশ কয়েকটি নিদর্শনের মধ্যে রাজবন বৌদ্ধবিহার একটি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি পবিত্র স্থান। মন্দিরের দৃষ্টিনন্দন গঠনের জন্য সাধারণ পর্যটকের কাছেও এটি আকর্ষণীয় জায়গা।

চিম্বুক :

দেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত। বান্দরবানের চিম্বুক সারা দেশেই পরিচিত নাম। চিম্বুক যাওয়ার রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ি দৃশ্য ও সাঙ্গু নদীর দৃশ্য খুবই মনোরম। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে দেখা যাবে মেঘের ভেলা।

স্বর্ণমন্দির :

মহাসুখ মন্দির। সোনালি রঙের জন্য স্বর্ণমন্দির বিখ্যাত। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বালাঘাটা এলাকার নাতিউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় এর অবস্থান। প্রতি পূর্ণিমার রাতে অপরূপ আলোয় এখানে জ্বলে ওঠে হাজার মাটির প্রদীপ।

লালবাগ কেল্লা :

লালবাগ দুর্গের নির্মাণ মোগল সুবেদার সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছেলে মোহাম্মদ আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু করেছিলেন। মোগল আমলের জটিল ও অসম্পূর্ণ একটি দুর্গ। এই দুর্গের স্থাপত্য পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।

ষাট গম্বুজ মসজিদ :

ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত ষাট গম্বুজ মসজিদ, এটি বৃহত্তম মসজিদটি সুলতানি আমলে নির্মিত হয়। মসজিদটি সাধারণত নামাজের জন্য ব্যবহার করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর :

এই জাদুঘর ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ খোলা হয়। জাদুঘর প্রদর্শন ১০,০০০ অধিক হস্তনির্মিত এবং চিত্র প্রদর্শনীতে। এটি বর্তমানে পুনর্নির্মিত হচ্ছে। জাদুঘর কোনো দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা বলে মনে করা হয়। কারণ এটাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংরক্ষণ আছে।

ছেড়াদ্বীপ :

সর্বত্র ছোট-বড় পাথর আর কিছু কেয়া গাছ। আর এর চারপাশজুড়ে শুধুই নীল পানির ঢেউ। সাগরের মাঝখানে ছোট্ট এক পাথুরে দ্বীপ। এটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিচ্ছিন্ন অংশ ও বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে থাকা বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ বিন্দু।

হুসাইনি দালান :

 হুসাইনি দালান ঢাকায় মোগল শাসনের আমলে নির্মিত হয়েছিল। মহররমের সময় অনুষ্ঠিত সভা বা জড়ো হওয়ার জন্য বেশির ভাগ শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ এ স্থান পরিদর্শন করে।

সাগরকন্যা কুয়াকাটা : 

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মাত্র সমুদ্রসৈকত যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। সমুদ্রের পেট চিরে সূর্যোদয় হওয়া এবং সমুদ্রের বক্ষে সূর্যকে হারিয়া যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা নিঃসন্দেহে দারুণ ব্যাপার।

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত :

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত চট্টগ্রামে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সৈকত। এটা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য সেরা গন্তব্য। তারা নিজস্ব সফর স্মরণীয় করতে তাদের পরিবারের সঙ্গে এখানে ঘুরে বেড়ান। এটা পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় স্থান।

খোলারাম দাতার বাড়ি : 

নবাবগঞ্জের বান্দুরায় এই বাড়িটি অবস্থিত। বিশাল বাড়ি তার নাম খোলারাম দাতার বাড়ি। বাড়িটি নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে। এই বাড়ি থেকে একটি সুড়ঙ্গপথ ছিল ইছামতির পাড়ে।

বরিশালের দুর্গাসাগর :

 বরিশালের বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকদের জন্য মনোরম পরিবেশ ও অনেক প্রাচীন কীর্তি রয়েছে এখানে। এখানকার মাধবপাশায় রাজবাড়ির সম্মুখে ইতিহাসখ্যাত দুর্গাসাগর দীঘি অবস্থিত।

সুন্দরবন :

সারা বিশ্বের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলগুলোর মধ্যে সুন্দরবন অন্যতম। বিশ্বের অনেক পর্যটক ঘুরতে আসেন সুন্দরবনে। অপরূপ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জোয়ার-ভাটা বিচিত্র রূপের এ বনকে দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা প্রতিদিন ভিড় জমান।

রাইংখ্যং পুকুর :

রাঙামাটির পাহাড় চূড়ায় নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক হ্রদ। আদিবাসী অধ্যুষিত হ্রদটির আয়তন প্রায় ৩০ একর। হ্রদের পানি স্বচ্ছ হওয়ায় সূর্যালোক, আবহাওয়া ও মেঘের ওপর ভিত্তি করে পানি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

সুপ্রাচীন খেরুয়া মসজিদ :

বগুড়া শহরের প্রবেশপথে শেরপুর উপজেলায় প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট আয়তাকার পরিকল্পনায় নির্মিত এই মসজিদ। ৯৮৯ হিজরি/১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে জনৈক মির্জা মুরাদ খান কাকশাল মসজিদটি নির্মাণ করেন।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

সোনাদিয়া দ্বীপ : 

কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে খুব বেশি দূরে নয় সোনাদিয়া দ্বীপ। ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বনের সমন্বয়ে গঠিত এই দ্বীপটি। সাগরের গাঢ় নীল জল, লাল কাঁকড়া, কেয়া বন, সামুদ্রিক পাখি সব মিলিয়ে এক ধরনের রোমাঞ্চিত পরিবেশ।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক :

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কটি দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। এখানে অবমুক্ত ও বেষ্টনীতে আবদ্ধ রয়েছে অনেক পশু-পাখি।

তাজহাট জমিদার বাড়ি :

শত বছরের অমলিন কীর্তি এই জমিদার বাড়িটি। রংপুরের হাজহাটে এর অবস্থান। রাস্তার দুই পাশে আকাশসম উচ্চতার নারিকেল গাছ। বাড়িটির সামনে ও পাশে দুটি পুকুর। অনেক দর্শনার্থী এখানে বেড়াতে আসেন। বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

বিরিশিরি

বিরিশিরি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। এটি এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বিরিশিরির মূল আকর্ষণ বিজয়পুর চীনামাটির খনি। সাদা মাটি পানির রংকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

মনপুরা :

বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। রুপালি দ্বীপ মনপুরা। মনপুরা উপজেলা দেশের মানুষের কাছে যেমন আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় জায়গা তেমনি বিদেশিদের কাছেও।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

চরগঙ্গামতি : 

কুয়াকাটার মূল ভূখণ্ডের পূর্বদিকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যটক আকর্ষণের আরেকটি লোভনীয় স্থান চরগঙ্গামতি। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

কুমিল্লা : 

কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধবিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুমিল্লা জেলায় লালমাই-ময়নামতি প্রত্নস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা, বার্ডসসহ আরও অনেক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্থান রয়েছে।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

নিঝুমদ্বীপ :

অপার সম্ভাবনার নিঝুমদ্বীপ নোয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা হাতিয়া। হাতিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের কোলে জেগে উঠেছে চিরসবুজের দ্বীপ নিঝুমদ্বীপ। মাছ, গাছ, পাখ-পাখালি আর সোনার হরিণের সম্পদ ভাণ্ডার নিঝুমদ্বীপ।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

জাফলং :

 সিলেটের জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলং-এর মনোমুঙ্কর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তূপ পর্যটকদের টেনে আনে বার বার। শীতের হিমেল আবহ ভ্রমণপিয়াসী আর পর্যটকদের মনে দোলা দেয়।

বাগেরহাট :

প্রাচীন অনেক পুরাকীর্তি রয়েছে এখানে। প্রাচীন মসজিদের শহর হিসেবে পরিচিত বাগেরহাট। জিন্দাপীর মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, বিবি বেগনী মসজিদ, সিংড়া মসজিদসহ অনেক প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে।বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here