মাছের উপকারিতা কি?আরও জেনে নি কোন মাছের কি কি উপকারিতা রহেছে।

0
1403
মাছের উপকারিতা কি?
মাছের উপকারিতা কি?

মাছের উপকারিতা কি?আমাদের অনেকের জানা নাই যে মাছের উপকারিতা সম্পর্কে ।আমাদের সকলের জানা দরকার কোন মাছের কি কি উপকারিতা রহেছে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ে :

দৃষ্টিশক্তি বাড়ে : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের শরীরে থাকা ‘ওমেগা থ্রি’ ফ্যাটি এসিড দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই যারা সারাদিন কম্পিউটার বা কোনো ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে বসে কাজ করে, তাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় মাছ থাকা একরকম আবশ্যক। Advertisement মাছের উপকারিতা কি?

স্মৃতিশক্তি বাড়ে :

বাড়ে স্মৃতিশক্তি : প্রতিদিন সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরে ডিএইচএ ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বাড়ে। এটি স্মৃতিশক্তির উন্নতিতে দারুণ কাজ করে। এ কারণে যাদের পরিবারে অ্যালঝেইমার্স বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের বেশি করে সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

মন চাঙ্গা রাখে :

মন চাঙ্গা রাখে : মাছের ‘ওমেগা থ্রি’ ফ্যাটি এসিড শরীরে প্রবেশ করার পর ‘ফিল গুড’ হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে মানসিক চাপ কমতে থাকে দ্রুত; সেই সঙ্গে মন চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তাই মানসিক চাপ দূরে রাখতে চাইলে নিয়মিত মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায় :

ক্ষমতা বাড়ায় মস্তিষ্কের : গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত যে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে ‘ওমেগা থ্রি’ ফ্যাটি এসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেবল তাই নয়, এই উপাদান মনোযোগ এবং বুদ্ধি বাড়াতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে।

প্রস্টেট ক্যান্সার দূরে রাখে :

প্রস্টেট ক্যান্সার দূরে রাখে : ‘লো ফ্যাট’ ডায়েট অনুসরণ করার পাশাপাশি প্রতিদিন যদি সামুদ্রিক মাছ খাওয়া যায়, তাহলে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। তাই এই মারণরোগ থেকে দূরে থাকতে নিত্যদিনের খাবার তালিকায় মাছের উপস্থিতি থাকতে হবে।

ইলিশ মাছের উপকারিতা: 

হজম শক্তি বাড়ায়, বায়ু কমায়, পিত্ত ও কফ কমায়। ইলিশ মাছ খান৷ কারণ এই মাছে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, এবং জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়ামের মতো খনিজ৷ ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে রয়েছে ২২.৩ শতাংশ প্রোটিন৷ জিঙ্ক ডায়াবেটিস রোগীদের পক্ষে খুব ভালো৷ সেলেনিয়াম আবার অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করে৷ এছাড়াও রয়েছে ক্যালসিয়াম আর আয়রনের পুষ্টিগুণও৷ ইলিশ মাছ এবং ইলিশ মাছের তেল হার্টের জন্যও খুব ভালো৷ যাদের হাইপার কলেস্টরল আছে, তারাও ইলিশ মাছ খান৷ কারণ তা খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএলকে কমিয়ে দেয়৷ এলডিএল বেড়ে গেলে কিন্ত্ত হার্ট ব্লকের সমস্যা হতে পারে৷

aইলিশ মাছে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই৷ বিশেষ করে ভিটামিন ডি কিন্ত্ত খুব কম খাবারেই পাওয়া যায়৷ অস্টিওপোরোসিসের জন্যও ইলিশ মাছ খুব ভালো৷ ইলিশ মাছে আরজিনিন থাকায় তা ডিপ্রেশনের জন্যও খুব ভালো৷ তাছাড়া ইলিশ মাছ ক্যান্সার প্রতিরোধক৷ হাঁপানি-র উপশমেও উপকারী৷ আবার সর্দি কাশির জন্যও ভালো৷

তবে ইলিশ মাছ আরা বছর নয়, শুধু ইলিশের মরশুমেই খান৷ যদি রোজ ইলিশ খেতে চান, তাহলে হালকা ইলিশের ঝোল খান৷ খুব কড়া করে ভাজা ইলিশ মাছ না খাওয়াই ভালো৷ তাছাড়া রোজ যদি সর্ষে বাটা দিয়ে কষে ইলিশ রান্না খান, তা হলে তা শরীরের পক্ষে খারাপ তো বটেই৷ জেনে রাখুন ইলিশ ডিম দেয়ার আগেই কিন্ত্ত ভালো খেতে৷

মজার কথা হলো ইলিশ মাছ যত জলে সাঁতার কাটে তত তার শরীর টোনড হয়ে ওঠে৷ আর তত ইলিশ মাছ সুস্বাদু হয়৷ জানবেন যে ইলিশ মাছের যত স্বাদ সেই ইলিশ তত পুষ্টিকর৷

শিং মাছের উপকারিতা:

শিং মাছ:এই মাছে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানের পরিমাণ বেশি। তাই প্রাচীনকাল থেকেই রক্তশূন্যতার রোগীদের শিং মাছ খেতে বলা হয়। এটি হাড়ের ঘনত্বও বাড়ায়। ১০০ গ্রাম শিং মাছে ২২ দশমিক ৮ গ্রাম প্রোটিন, ৬৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ২ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম আয়রন আছে। শুক্র, বল ও রক্ত বাড়ায়, রক্তহীন ও পউরানা রুগীদের জন্য ভাল খাবার। 

মাগুর মাছের উপকারিতা:

মাগুর মাছ:শিং মাছের তুলনায় মাগুর মাছে আয়রন ও ক্যালসিয়াম একটু কম থাকে। তবে সুস্বাদু বলে এর কদর বেশি। ১০০ গ্রাম মাগুর মাছে আছে ৮৬ ক্যালরি, ১৫ গ্রাম প্রোটিন, ২১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২৯০ মিলিগ্রাম ফসফরাস ও শূন্য দশমিক ৭ মিলিগ্রাম আয়রন।

শোল মাছের উপকারিতা:

শোল মাছ:সুস্বাদু এই মাছ মানবদেহের হাড় ও মাংসপেশি গঠনে সাহায্য করে, রুচিও বাড়ায়। ১০০ গ্রাম শোল মাছে আছে ৯৪ ক্যালরি, ১৬ দশমিক ২ গ্রাম প্রোটিন, ১৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম আয়রন, ৯৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ১ হাজার ৮০ মাইক্রোগ্রাম জিংক। পায়খানা কষায়, পিত্ত ও রক্তের জন্য খুবই উপকারী।

চিংড়ি মাছের উপকারিতা:

চিংড়ি মাছ :– অতিরিক্ত চর্বি কমাতে চিংড়িঃ চিংড়িতে রয়েছে নিয়াসিন নামক অত্যন্ত উপকারী উপাদান। যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনকে এনার্জিতে রুপান্তরিত করে। ফলে শরীরে চর্বি জমার কোন অভিপ্রায় নেই ও ওজন থাকে সঠিক।
হাড়ের ক্ষয় রোধ করে চিংড়িঃ নিয়মিত চিংড়ি মাছ খেলে হাড়ের ক্ষয় রোধ হয় এবং হাড় মজবুত থাকে। কারন চিংড়ি মাছে রয়েছে ফসফরাস নামক এক বেশেষ সাস্থ্যকর উপাদান।

বিষন্নতা দূর করে চিংড়িঃ চিংড়ি আমাদের দেহের বিষন্নতা দূর করে। কারন প্রতি ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছে রয়েছে ৩৪৭ মিলিগ্রাম ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। বিশিষ্ট গবেষকদের মতে মানবদেহের মস্তিষ্কে সেরেটেনিন উত্‍পন্ন করে যা আমাদের বিষাদ বা বিষন্নতা দূর করে।
প্রস্রাবের সমস্যায় চিংড়িঃ চিংড়ি মাছে রয়েছে জিংক নামক উপাদান। যা আমাদের প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা ও ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। এই জিংক মুত্রথলি সংক্রান্ত ক্যান্সার থেকেও সুরক্ষা করতে পারে।

ডায়বেটিস সারাতে চিংড়িঃ প্রতি ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছে রয়েছে ৮% ম্যাগনেসিয়াম। আর এই ম্যাগনেসিয়াম ডায়বেটিস রোগীদের জন্য একটি আদর্শ উপাদান। ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর এই ম্যাগনেসিয়াম ডায়বেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপুর্ণ উপাদান। নিয়মিত চিংড়ি মাছ খেলে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ সঠিকভাবে বজায় রাখে। ফলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

থাইরয়েডের সমস্যায় চিংড়িঃ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ চিংড়ি মাছে রয়েছে এর ১০% কপার। যা আমাদের শরীরে হরমোনের মাত্রা সঠিক রাখে ও থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত চিংড়ী মাছ খেলে থাইরয়েড জনিত সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

চিতল মাছের উপকারিতা :

রুচি, বল, শুক্র ও কফ বাড়ায়। শরীরের মেদ পিত্ত ও রক্ত দোষে খুবই উপকারী। শীত পিত্ত বা শরীরে এলার্জি বৃদ্ধি করে।

রুই মাছের উপকারিতা :

রুই মাছ : বল বীর্য ও শুক্র বাড়ায় কিন্তু বাত রোগ থাকলে তা কমায়। 

কাতলা মাছের উপকারিতা :

কাতলা মাছ : বায়ু পিত্ত ও কফ কমায় কিন্তু শক্তি বাড়ায়। 

শিং মাছের উপকারিতা : 

শিং মাছ : কফ, মায়ের দুধ ও শক্তি বাড়ায় এবং শরীরের বাত কমায়।

কৈ মাছের উপকারিতা : 

 কৈ মাছ : শক্তি ও পিত্ত বাড়ায়, বায়ু কমায়।

টেংরা মাছের উপকারিতা :

 টেংরা মাছ : কফ ও পিত্ত কমায়, শরীরে বল বাড়ায়।

ভেটকি মাছের উপকারিতা : 

ভেটকি মাছ : শরীরের আমবাত উত্‍পন্ন করে, শ্লেমা বাড়ায়, বাত ও পিত্ত কমায়।

পুটি মাছের উপকারিতা : 

 পুটি মাছ : শুক্র বাড়ায়, কফ, বাত, কুষ্ঠ রোগ দূর করে। ঘিয়ে ভাজা পুটি মাছে ধ্বজ ভঙ্গ রোগে উপকার হয়।

টাকি মাছের উপকারিতা :

টাকি মাছ:অনেকে এই মাছ ভর্তা করে খায়। ১০০ গ্রাম টাকি মাছে ১৭ দশমিক ১৮ গ্রাম প্রোটিন, ৭৫৭ মাইক্রোগ্রাম জিংক, ১ দশমিক ১৭ মিলিগ্রাম আয়রন ও ১৫৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম আছে।মাছের উপকারিতা কি?


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here