মেথি কি? মেথির উপকারীতা ও অপকারিতা.

0
4390
মেথি কি?

আসলে মেথি কি?মেথি একটি একটি ভেষজ মৌসুমী গাছ। মেথি সবাই চেনেন। মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য—তিনটিই বলা চলে। মেথির স্বাদ তিতা ধরনের। এর পাতা শাক হিসাবে খাওয়া হয়। মেথি শাক গ্রাম বাংলার মানুষের প্রিয় খাদ্য। ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় মেথির বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। যুগ যুগ ধরেই মেথির বীজ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মশলা হিসাবেও এটি প্রচুর ব্যবহার হয়। এটি পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। মেথি থেকে ষ্টেরয়েডের উপাদান তৈরি হয়।

আমরা মেথি কেন খাবেন ?

১/মেথি খেলে গ্যাসটিক তথা পেপটিক আলসার সেরে যায় ।
২/মেথি খেলে ওজন কমাতে থাকে ।
৩/মেথি খেলে জ্বর ও খুসখুসে গলার ভাল হয় ।
৪/মেথি খেলে চুল পড়া রোধ হয় ।
৫/মেথি খেলে হজমে সহায়ক হয় ।
৬/মেথি খেলে রক্তে গ্লুকোজ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে ।
৭/মেথি খেলে উজ্জ্বল ত্বকের হয় ।
৮/মেথি খেলে খুশকি দূর হয় ।
৯/মেথি খেলে সন্তান জন্মদানকে কিছুটা সহজ হয় ।
১০/মেথি খেলে যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায় 

মেথির উপকারীতা

মেথিরবিভিন্ন উপকারীতা নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

১. ওজন কমাতে প্রাকৃতিক ফাইবার থেকে জন্ম নেয় মেথি। এগুলো চিবিয়ে গিলে খাওয়া যায় এবং পাকস্থলীর ফাঁকা স্থান এরা পূর্ণ করে। এতে ওজন কমানোর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। খুব বেশি নয়, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সামান্য মেথি চিবিয়ে খান। এতেই স্পষ্ট বুঝবেন উপকার পাচ্ছেন। স্থূলতা কমাতে প্রতিদিন সকালে মেথি ভেজানো পানি পান করতে পারেন। দুটি আলাদা গ্লাসে পানি নিয়ে প্রতিটিতে এক টেবিল চামচ মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। এই পানি পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর করে। 

মেথিতে আছে সাইটো-ইস্ট্রোজেন

২. জ্বর ও খুসখুসে গলার জন্য লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে এক টেবিল চামচ মেথি চিবিয়ে খেলে জ্বর থেকে মুক্তি মেলে। আবার এতে রয়েছে মুসিলেজ নামের এক ধরনের যৌগ, যা গলার খুসখুসে ভাব দূর করে। নারীদের স্বাস্থ্যগত বিষয়েও এর উপকারিতা রয়েছে। মেথিতে রয়েছে সাইটো-ইস্ট্রোজেন, যা নারীদেহে প্রোলাকটিন নামের হরমোনের মাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়। এই হরমোন নারীদেহকে সুগঠিত করে। এ ছাড়া ঋতুকালীন বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেয় মেথি।

 ৩. চুল পড়া রোধে মেথি স্বাস্থ্যহীন চুলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেয় মেথি। চুল পড়া রোধে বহুকাল ধরে মেথির কদর চলে আসছে। এটি খেতেও পারেন, বা বেটে মাথায় দিতে পারেন। বিস্ময়কর উপকারিতা মিলবে। মেথি বাটা সারা রাত নারিকেল তেলের মধ্যে চুবিয়ে রেখে সকালে চুলে মাখুন। ঘণ্টাখানেক পর গোসল করে ফেলুন।

মেথি হজমে সহায়ক

 ৪. হজমে সহায়ক বুকে বা পেটের ওপরের দিকে এসিডের প্রদাহ থেকে মুক্তি দেয় মেথি। সেই সঙ্গে বদহজমের সমস্যায় ওষুধের মতো কাজ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এ সবই দেহের বিষাক্ত উপাদানগুলোকে বের করে দেয়। উপকার পেতে স্রেফ পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে খেলেই হবে। পানিটাও খেতে ভুলবেন না।

 ৫. রক্তে গ্লুকোজ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেদেহে গ্লুকোজের মাত্রা দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে মেথি। এর অ্যামাইনো এসিড অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন ক্ষরণে সহায়তা করে। এতে দেহে গ্লুকোজের পরিমাণ হ্রাস পায়। ফলে ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

রূপচর্চায় মেথি

৬. উজ্জ্বল ত্বকের জন্য রূপচর্চায়ও মেথিকে শীর্ষে রাখা যায়। সারা দেহে বয়ে বেড়ানো নানা ক্ষতিকর উপাদান চেহারায় বলিরেখা ফেলে দেয়। এ ছাড়া চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল সৃষ্টিতেও ওস্তাদ এগুলো। মেথি দেহের সব অপ্রয়োজনীয় উপাদান ঝেঁটিয়ে বিদায় করে।

 ৭. খুশকি দূর করতেবিশেষ ধরনের চুলে প্রচুর খুশকির উত্পাত ঘটে। মাথার শুষ্ক ও মৃত ত্বক থেকে খুশকি হয়। গোটা রাত পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে তা বেটে পেস্ট তৈরি করুন। এতে ইচ্ছে হলে দই মেশাতে পারেন। এরপর এই মিশ্রণ মাথার ত্বকে লাগান। মিনিট তিরিশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি চলে যাবে। মেথি কি?

জরায়ুর সংকোচন মেথি

৮. সন্তান জন্মদানকে কিছুটা সহজ করতে জরায়ুর সংকোচন ও প্রসারণের যন্ত্রণা কমাতে মেথির অবদানের কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অতিরিক্ত খাওয়া হলে গর্ভপাত বা অপরিণত শিশুর জন্মদানের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।  মেথি কি?

মেথির অপকারিতা

সবেরই কিছু ক্ষতিকর দিক থাকে | এবার জেনে নেওয়া যাক মেথির অপকারী দিকগুলি কিরকম |

  • মুখে মেথির গুঁড়ো গেলে তেঁতো বোধ হয়। ফলে অনেকের বমি বমি ভাব লাগে বা মাথা ঘোরার ভাব বোধ হয়।
  • মেথির ব্যবহারে ব্লাড সুগারের পরিমাণ হঠাৎ কমে যেতে পারে।
  • মেথি দীর্ঘদিন ধরে খাওয়ার ফলে শরীর থেকে একটা দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় যা অস্বস্তিদায়ক।
  • কৌমারীন থাকার জন্য মেথির দানা রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। যাদের রক্ত পাতলা তাদের মেথি রোজ ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া বাঞ্চনীয়।
  • গর্ভবতী মহিলারা মেথির দানা ভেজানো জল দীর্ঘদিন ধরে খেতে থাকলে সময়ের আগেই শিশুর জন্ম দেওয়া এমনকি গর্ভপাতের মতন ঘটনাও ঘটতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here