রং চা এর উপকারিতা

0
945
রং-চা-এর-উপকারিতা

রং চা এর উপকারিতা সম্পর্কে আমাদেরকে জানতে হবে। রং চা তে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেটা শরীরের জন্য উপকারী। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, রক্তনালীর প্রসারণ ঘটায় রং চা এতে উচ্চরক্তচাপ এবং হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ থাকে।

লাল চা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারী। রং চা মানব দেহের কোষ থেকে তুলনামূলক প্রায় পনের গুণ বেশি ইনসুলিন নিঃসৃত করতে পারে। এছাড়া এটা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।

দুধ চা অথবা অনেকক্ষণ জ্বালানো চা পাতা থেকে নিঃসৃত হয় ট্যানিন যেটা ক্যানসারের অন্যতম প্রধান উপাদান। সুতরাং বুঝতেই পারছেন হালকা জ্বাল দেয়া রং চা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

রং চা এর উপকারিতা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

লাল চা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। চার কাপ লাল চা প্রতিদিন গ্রহণ করলে প্রদাহ কমে।

হজম ভালো করে

এর মধ্যে থাকা ট্যানিন হজম প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। এটি অন্ত্রের সমস্যা এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে। লাল চা অন্ত্রের প্রদাহ প্রতিরোধেও কাজ করে।

হার্টের জন্য ভালো

গবেষণায় বলা হয়, লাল চা খাওয়া কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের জারিত হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে। নিয়মিত লাল চা খেলে হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে।

মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের ক্ষয় তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া এর মধ্যে থাকা ফ্লোরাইড মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

ক্যানসার প্রতিরোধে

রং চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রেক্টাল, জরায়ুর ক্যানসার, ফুসফুস ও ব্লাডার ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এটি স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার ও পাকস্থলীর ক্যানসারও প্রতিরোধে কাজ করে।

মস্তিষ্ক ও স্নায়ু পদ্ধতিকে উদ্দীপ্ত করে

রং চা রক্তের পরিবহনকে উন্নত করে। এটি মস্তিষ্ককে শিথিল করতে সাহায্য করে এবং কাজে মনোযোগ বাড়ায়। প্রতিদিন চার কাপ লাল চা খেলে মানসিক চাপ কমে।

দিনের শুরুতে

দিনের শুরুতে কিংবা পড়ন্ত বিকালে এক কাপ ধোঁয়া উঠা চায়ের জুড়ি নেই। ক্লান্তি দূর করে কর্মব্যস্ত জীবনে কর্মোদ্যম থাকতে এক কাপ চা অনেকের কাছেই বেশ পছন্দের। কিন্তু শরীরের জন্য কোন চা ভালো তা অধিকাংশ মানুষই জানেন না।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের জন্য উপকারী। এই ফ্ল্যাভোনয়েড বেশি পাওয়া যায় হালকা জাল এর রং চা-তেই। গবেষণায় আরও বলা হয়, রং চা রক্তনালীর প্রসারণ ঘটায় যা উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রং চা

এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রং চা উপকারী কারণ এটি কোষ থেকে সাধারণের তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ বেশি ইনসুলিন নিঃসৃত করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া দুধ চা কিংবা অনেকক্ষণ জ্বাল দেওয়া চাপাতা থেকে ট্যানিন নিঃসৃত হয় যা ক্যানসারের অন্যতম উপাদান। তাই হালকা জ্বাল এর রং চা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। 


আধুনিক সময়ে চা পান করে না এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। আবার এমনও মানুষ আছেন যারা প্রতিদিন চা পান না করে থাকতে পারে না। আসলেও তাই। বন্ধা-বান্ধবদের আড্ডায়, পত্রিকা পড়ার সময় চা ছাড়া কি চলে! তবে দুধ চা, রং চা না হারবাল চা পান করবেন এ নিয়ে মতভেদ আছে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে

কেউ রং চা, কেউবা দুধ চা পান করতে পছ্ন্দ করেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রং চা-ই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী গবেষণাটি চালান।
চায়ের উপকারিতা শুধু সকালের ভাঙা ঘুমের জড়তা কাটানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। চায়ে আছে বহুমুখী গুণ যা আপনাকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে সহায়ক।

চা খেলে গায়ের রং পরিবর্তন বা কালো হয় এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আবার কেউ কেউ মনে করেন চা খেলে ত্বক খসখসে হয়ে যাবে। অনেকে আবার বিশ্বাস করেন, চা খেলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চামড়ায় কালো ছাপ পড়ে—এর কোনোটিই ঠিক নয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত খেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। চায়ের রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড। যার মধ্যে রয়েছে চমত্কার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস।রং চা এর উপকারিতা

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস

এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস কালো এবং সবুজ চা দুটোতেই পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে। ফ্ল্যাভোনয়েড নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস খাবারের সাথে বেশি পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরে গেলে হূদযন্ত্র অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফলমূল বা শাক-সবজিতে যে পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস থাকে তার চেয়ে চায়ে বেশি পাওয়া যায়। চায়ে আছে কিছু ভিটামিন, দুটি খনিজ পদার্থ ও ১৫টিরও বেশি অ্যামাইনো অ্যাসিড।

আছে থায়ামিন (ভিটামিন বি) কার্বোহাইড্রেট, মেটাবলিজমের জন্য যা দরকার। চায়ে আছে ভিটামিন-সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া চায়ে আছে ভিটামিন-বি, ফলিক অ্যাসিড প্রভৃতি। আমাদের শরীরে দিনে ২ থেকে ৫ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজের দরকার হয়।রং চা এর উপকারিতা

প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ম্যাঙ্গানিজের


পাঁচ থেকে ছয় কাপ চা দুধ ছাড়া পান করলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ম্যাঙ্গানিজের ৪৫ শতাংশ পূরণ হয়। শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য প্রয়োজন পটাশিয়ামের। পটাশিয়াম আলস্য কাটায়, ক্লান্তি, অবসাদ প্রভৃতিকে কাটিয়ে শরীরকে চাঙ্গা করে রাখে। প্রতিদিন ৪-৫ কাপ সবুজ চায়ের লিকার শরীরের প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের তিন-চতুর্থাংশ পূরণ করে।

চায়ে সামান্য পরিমাণে

চায়ে সামান্য পরিমাণে জিঙ্ক আছে। যা শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। আবার লেবু দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে চা (লেবু চা)। এ চা দেখতে যেমন সুন্দর,

১. চা খাবার থেকে আয়রন শোষণ করে। কারণ চা বা কফিতে রয়েছে পলিফেনন জেস্টানিন নামক উপাদান যা আয়রন শোষণ করে বা জেস্টানিনরে সঙ্গে আয়রন মিশে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

২. চা শরীরে থায়ামিন বা ভিটামিন বি শোষণ রোধ করে যা বেরিবেরি রোগের অন্যতম কারণ।

৩. চা খাবার থেকে আমিষ ও ভিটামিন শোষণ করে এবং শরীর এই খাবারগুলোকে হজম করতে পারে না

৪.চা এর মধ্যে অ্যাসিডাম টেনিকামস ও জেসথিয়োফিলিনস নামক উপাদান রয়েছে যাপাকস্থলীর হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত করেকখন চা বা কফি পান করবেন?এসব সমস্যার কারণে কি চা পান করা বাদ দিবেন? অবশ্যই নাকেননা চা ও কফি পান করার অনেক উপকারীতা আছে। রং চা এর উপকারিতা সম্পরকে আমাদেরকে জানতে হবে।

রং চা এর উপকারিতা

তাই কিছু নিয়ম মেনে চললে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

১. খাবার খাওয়ার অন্তত: আধা ঘণ্টা আগে অথবা খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পরে চা পান করা।

২. সকাল, দুপুর এবং রাতের খাবারের ১ থেকে ২ ঘণ্টা পরে চা বা কফি পান করা।

৩. যাদের রক্তশূন্যতা আছে, কম বয়স্ক মেয়েরা বা যেসব নারীরা বৃদ্ধ নয় তাদের এই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

৪. যাদের হজমে ও অম্লত্বর সমস্যা রয়েছে তাদেরও এই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here