রসুনের উপকারিতা কি?আরও জেনে নিন রসুন ও মধুর গুণাগুণ সম্পর্কে..

0
1313
রসুনের উপকারিতা কি
রসুনের উপকারিতা কি

আমাদের অনেকের জানা নাই যে রসুনের উপকারিতা কি? রসুন এর সম্পর্কে জানা থাকলে আমরা ঘরে বসে অনেক অসুখ সেরে পেলতে পারি।আমদের সকলের রসুন এর রসুনের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত….

যৌনতা বাড়াতে রসুনের উপকারিতা!

রসুনের উপকারিতা কি জানা ধরকার।কেননা সুস্থ বীর্য তৈরিতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার। যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুব ভাল ফল দিয়ে থাকে। রসুন কে ‘গরীবের পেনিসিলিন’ বলা হয়। কারণ, এটি অ্যান্টিসেপ্টিক হিসাবে কাজ করে আর এটি অতি সহজলভ্য সবজি যা আমরা প্রায় প্রতিনিয়ত খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকি।

আপনার যৌন ইচ্ছা ফিরে আনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার খুবই কার্যকরী। কোন রোগের কারণে বা দুর্ঘটনায় আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গেলে এটি আপনাকে তা পুনরায় ফিরে পেতে সাহায্য করে।এছাড়া যদি কোন ব্যক্তির যৌন ইচ্ছা খুব বেশী হয় বা তা মাত্রাতিরিক্ত হয় যার অত্যধিক প্রয়োগ তার নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে এমন ক্ষেত্রে ও রসুন খুব ই কার্যকরী।

কীভাবে খাবেন রসুন:

কীভাবে খাবেন রসুন: প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে শরীরের যৌবন দীর্ঘ স্থায়ি হয় । যারা পড়ন্ত যৌবনে চলে গিয়েছেন, তারা প্রতিদিন দু’কোয়া রসুন খাঁটি গাওয়া ঘি-এ ভেজে মাখন মাখিয়ে খেতে পারেন। তবে খাওয়ার শেষে একটু গরম জল বা দুধ খাওয়া উচিৎ। এতে ভাল ফল পাবেন। যৌবন রক্ষার জন্য রসুন অন্যভাবেও খাওয়াযায়। কাঁচা আমলকির রস দুই বা এক চামচ নিয়ে তার সঙ্গে এক বা দুই কোয়া রসুন বাটা খাওয়া যায়। এতে স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের যৌবন দীর্ঘস্থায়ি হয়।

সাবধানতা:

সাবধানতা: যাদের শরীর থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, অতিরিক্ত রসুন খাওয়া তাদের জন্য বিপদ জনক। কারণ, রসুন রক্তের জমাট বাঁধার ক্রিয়াকে বাধা প্রদান করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হতে অসুবিধা হতে পারে। তা ছাড়া অতিরিক্ত রসুন শরীরে অ্যালার্জি ঘটাতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রসুন না খাওয়াই উত্তম। রসুন খাওয়ার ফলে পা

কস্থলীতে অস্বস্তি বোধ করলে রসুন খাওয়া বন্ধ রাখুন। শিশুকে দুগ্ধদানকারী মায়েদের রসুন না খাওয়াই ভাল। কারণ রসুন খাওয়ার ফলে তা মায়ের দুধের মাধ্যমে শিশুর পাকস্থলীতে ঢুকে শিশুর যন্ত্রণার কারণ ঘটাতে পারে।

চুলের যত্নে রসুন:

রসুনের উপকারিতা কি জানা ধরকার ।চুল পড়া কমাতে রসুনের ব্যবহার করতে পারেন। রসুন চুল পড়া কমায়, চুলের খুশকি দূর করে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে ও চুলের সংক্রমণজাতীয় সমস্যারও সমাধান করে। শুধু তাই না এটি চুল নরম ও মসৃণ করতেও সাহায্য করে। চুলে রসুন ব্যবহারে উপকারিতা জেনে নিন।

রসুনের উপকারিতা কি
রসুনের উপকারিতা কি
  • রসুন ব্লেন্ড করে এর রস বের করে নিতে হবে, এবার এর সঙ্গে সমপরিমাণে পেঁয়াজের রস মিশিয়ে দিতে হবে। একটি তুলার বলে এই রস নিয়ে মাথার তালুতে লাগাতে হবে। তারপর হাতের আঙুল দিয়ে কিছুক্ষণ মাথার তালু ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুল পড়া কমাতে সাহায্য করবে। ভালো ফল পেতে চাইলে এই রস নিয়মিত মাথায় ব্যবহার করুন।
  • এক টেবিল চামচ রসুনের রসের সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণ এবার চুলে ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার ভালো করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এটি মাথার ত্বকের সংক্রমণজাতীয় সমস্যার সমাধান করবে এবং খুশকি দূর করবে।
  • কয়েকটি রসুনের কোয়া থেঁতলে এর রস বের করে নিন। এবার এক টেবিল চামচ রসুনের রস আধা কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে গরম করুন। এখন এই তেল দিয়ে মাথার তালু হালকাভাবে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে, মাথার ত্বকের সংক্রমণের জীবাণু ধ্বংস করবে এবং চুল কালো রাখতে সাহায্য করবে।
  • প্রথমে রোদে কিছুদিন রসুন ভালো করে শুকিয়ে নিন। এবার এগুলে ব্লেন্ডারে পানি ছাড়া গুঁড়া করুন। শ্যাম্পু করার পর এটি চুলে কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুল মসৃণ করতে সাহায্য করবে।
  • একটি ডিমের সাদা অংশ, এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ও এক টেবিল চামচ রসুনের রস একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে মাথার তালু ও চুলে লাগান। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। রসুনের ভিটামিন-ই ও ডিমের প্রোটিন চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করবে। আর অলিভ অয়েল চুলের গোড়ায় পুষ্টি জুগিয়ে চুল নরম ও মসৃণ করবে।

ঔষধি গুণের জন্য রসুনঃ

শুধু খাবারের স্বাদ বাড়াতেই নয়, ঔষধি গুণের জন্য রয়েছে রসুনের বাড়তি কদর। কাঁচা রসুন খেতে পারলে অনেক রোগের হাত থেকেই মুক্তি পাওয়া যায়। আর এর সঙ্গে যদি একটু মধু যুক্ত হয় তা হলে তো কোনও কথাই নেই।

রসুন ও মধুর গুণাগুণ সম্পর্কে কম বেশি প্রত্যেকেই জানেন। রসুনের অ্যালিসিন উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়, রক্তজমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

মধুর মধ্যে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এনজাইম, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম এবং সেলিনিয়াম রয়েছে। তাই রসুন ও মধু একসঙ্গে খেতে পারলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

রসুন ও মধুর গুণাগুণ বা উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন..

নিয়মিত খালি পেটে ১ কোয়া রসুনের সঙ্গে ১ চামচ মধু খান। দেখবেন ১ মাসের মধ্যে আপনার ওজন কমে গেছে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চা-কফি যেমন খান। ঠিক তেমনই নিয়ম করে খালি পেটে ১ কোয়া রসুনের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। এতে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা অনেকটাই কমে।

সর্দি-কাশি রসুনঃ

  • অনেক সময়ে ঔষুধ খেলেও সর্দি-কাশি যেন কমতে চায় না। তাই নিয়ম করে যদি রসুনের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন দেখবেন জ্বর, সর্দি-কাশির হাত থেকে মুক্তি পাবেন।
  • অনেক সময়ে আঙুলের গাঁটে ব্যথা শুরু হলে ব্যথা যেন কমতে চায় না। ব্যথার চোটে আঙুল ভাঁজ করতেও কষ্ট হয়। সেক্ষেত্রে নিয়ম করে যদি রসুন ও ১ চামচ মধু খেতে পারেন সব ব্যথা দেখবেন উধাও হয়ে গেছে।
  • কোয়া রসুন ও ১ চামচ মধু খেয়েই দেখুন। ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দারুণ উপকারী রসুন ও মধু। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশের ফাঙ্গাল ইনফেকশান দূর করে ব্যকটেরিয়া ধ্বংস করে থাকে এই মিশ্রণটি।

উচ্চরক্তচাপ এ রসুনঃ

  • নিয়ম করে যদি খালি পেটে রসুনের সঙ্গে ১ চামচ মধু খেতে পারেন তা হলে উচ্চরক্তচাপ ও রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ছাড়া অস্টিওআর্থারাইটিস, ডায়াবিটিস এবং প্রস্টেট সম্প্রসারণ রোধ করতে কাঁচা রসুনের ভূমিকা অনবদ্য।
  • চুল পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং নতুন চুলের বৃদ্ধি ঘটাতেও সাহায্য করে রসুন ও মধু। ৭-৮ কোয়া রসুন বেটে নিন। বেটে রাখা রসুনের রসের মধ্যে ২ চামচ মধু মিশিয়ে চুল এবং স্ক্যাল্পে ভালো করে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। সপ্তাহে ৩-৪ দিন করুন।
  • রসুনের মধ্যে Allicina নামের এক কম্পাউন্ড পাওয়া যায় যা বিভিন্ন রোগ সারাতে সাহায্য করে| প্রাচীন ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে জানতে পারবেন তখন রসুন কিন্তু শুধু মাত্র বিভিন্ন অসুখ সারানোর জন্যই ব্যবহার হতো | মিশরীয়‚ ব্যাবিলনীয়‚ গ্রিক‚ রোমান এবং চৈনিক সভ্যতায় ওষুধ হিসেবে রসুনের ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া গেছে |
  • রসুন খুব নিউট্রিসাস‚ কিন্তু এতে খুব কম ক্যালোরি আছে :

১ আউন্স বা ২৮ গ্রাম রসুনের মধ্যে রয়েছে :

  • মান্গানেসে : 23% of the RDA.
  • ভিটামিন  B6: 17% of the RDA.
  • ভিটামিন  C: 15% of the RDA.
  • সেলেনিউম্ : 6% of the RDA.
  • ফাইবার : 1 gram.

এছাড়াও রসুনের মধ্যে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম‚ কপার‚ পটাশিয়াম‚ ফসফরাস‚ আয়রন এবং ভিটামিনB1 |

শুধু তাই নয় রসুনের মধ্যে আমাদের শরীরে যা দরকার মোটামুটি সবই পাওয়া যায় |

  • সারমর্ম হলো রসুনের মধ্যে খুব কম ক্যালরি আছে কিন্তু ভিটামিন C‚ ভিটামিন B6 এবং ম্যাঙ্গানিজ আছে | এছাড়াও এতে বিভিন্ন ধরনের নিউট্রিয়েন্টস আছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুব দরকার |
  • রসুনের সাপ্লিমেন্ট বা কাঁচা রসুন খেলে ফ্লু এবং কমন কোল্ড তাড়াতাড়ি সেরে যায় | এর কারণ রসুন খেলে ইমিউন সিস্টেমের কার্যক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যায় |

রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে:

  • রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে: কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ যেমন হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক এর কারণে সারা পৃথিবীতে সব থেকে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয় | উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হৃদ রোগের মুখ্য কারণ | কিন্তু দেখা গেছে রোজ চার কোয়া করে রসুন খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে |

শরীরে কোলেস্টেরল লেভেল ঠিক রাখে :

  • শরীরে কোলেস্টেরল লেভেল ঠিক রাখে : নিয়মিত রসুন খেলে শরীরে Bad Cholesterol কমে যায় এবং Good Cholesterol এর বৃদ্ধি হয় |
  • রসুনে উপস্থিত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ‘সেল ড্যামেজ এবং ‘এজিং‘ রোধ করে | এর ফলে অ্যালঝাইমারস ডিসিজ এবং ডিমেনশিয়ার মতো রোগের হাত থেকে প্রতিকার পাওয়া যায় |

বেশিদিন জীবিত থাকতে সাহায্য করে :

  • বেশিদিন জীবিত থাকতে সাহায্য করে : যেহেতু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে তাই ক্রনিক ডিসিজ কম হয় | ফলে আপনার দীর্ঘজীবি হওয়ার সম্ভবনা অনেকেটা বেড়ে যায় |

শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে :

  • শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে : রসুনে উপস্থিত সালফার অরগ্যান ড্যামেজ থেকে এবং শরীরকে lead থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে |

হাড়ের জোর বাড়ায় : 

  • হাড়ের জোর বাড়ায় : এমনিতেই একটা বয়েসের পর মহিলাদের হাড়ের জোর কমে যায় | দেখা গেছে রোজ ২ গ্রাম করে রসুন খেলে মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় | ফলে হাড় সংক্রান্ত সমস্যা অনেকটা কমে যায় | এমন কী যে মহিলাদের মেনোপোজ হয়ে গেছে তারাও নিয়মিত রসুন খেলে অনেক উপকার পাবেন |

দ্রুত স্কিন ইনফেকশন সারিয়ে তোলে :

  • দ্রুত স্কিন ইনফেকশন সারিয়ে তোলে : যেহেতু রসুনে অ্যান্টি ভাইরাল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি আছে তাই স্কিন ইনফেকশন এর চিকিৎসায় কাজে লাগে |
  • ডায়বেটিস‚ উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ত সংক্রান্ত ডিজিজ কন্ট্রোলে রাখুন : বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে কিডনির সমস্যা তখনই হয় যখন ডায়বেটিস‚ উচ্চ রক্তচাপ বা হার্ট সংক্রান্ত রোগ থাকে | দেখা গেছে ৫০% ব্যাক্তি যাদের ডায়বেটিস আছে তারা কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়েছেন | অন্যদিকে যাদের রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর ওপরে তাদের ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি | তাই রক্তে চিনির পরিমাণ এবং রক্তচাপ ঠিক রাখা খুব জরুরী | ৪০ বছরের ওপরে বছরে একবার অবশ্যই হেল্থ চেক আপ করান |

নুনের পরিমাণ কম করুন : 

  • নুনের পরিমাণ কম করুন : নুন রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি করে | এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও কিডনি স্টোন হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায় | তাই বয়েস বাড়ার সঙ্গে নুন খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে | এছাড়াও জাঙ্ক ফুডে প্রচুর পরিণে সোডিয়াম থকে | তাই এইসব খাবার খাওয়া কমাতে হবে | এবং ঘরের রান্না করা খাবার খেতে হবে |

 বেশি করে জল পান করতে হবে :

  •  বেশি করে জল পান করতে হবে : যত বেশি জল পান করবেন তত বেশি আপনার শরীর থেকে সোডিয়াম এবং ক্ষতিকারক টক্সিন বেরিয়ে যাবে | তাই সারাদিনে অন্তত ৪ লিটার বা ৮ গ্লাস জল পান করুন |

 প্রস্রাব চেপে রাখবেন না 

  •  প্রস্রাব চেপে রাখবেন না : কিডনির প্রধান কাজ হলো রক্ত কে পরিষ্কার করা | ফিলট্রেশন হওয়ার পর বাড়তি জল ইউরিনারী ব্লাডারে জমা হয় | ব্লাডার অনেক পরিমাণ জল ধরে রাখতে পারে | কিন্তু সময়মতো এই জল শরীর থেকে না বের করলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে | তাই বেশি সময়ের জন্য প্রস্রাব চেপে রাখবেন না |
  • জাঙ্ক খাবারের বদলে টাটকা তাজা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন : যদি বেশি করে ফাস্ট ফুড এবং জাঙ্ক খাবার খান তা আপনার শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলবে | তাই সঠিক খাবার খাওয়া খুব জরুরী | বিশেষতঃ মাছ‚ অ্যাসপ্যারাগাস‚ সিরিয়ালস‚ রসুন‚ পার্সলে এইসব বেশি করে খাওয়ার চেষ্টা করুন‚কারণ এইসব খাবার কিডনি ভালো রাখে | ফলের মধ্যে তরমুজ‚ কমলা লেবু‚ মুসাম্বি লেবু বেশি করে খান |
  •  মদ্যপান এবং স্মোকিং বন্ধ করে দিন : বেশি পরিমাণে মদ্যপান করলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স এবং হরমোনাল কন্ট্রোল নষ্ট হয়ে যায় | এর ফলে কিডনির ওপর মারাত্মক প্রভাব পরে | স্মোকিং যদিও সরাসরি কিডনির ওপর প্রভাব ফেলে না কিন্তু এর ফলে হার্ট ডিজিজ হতে পারে‚ যার থেকে কিডনির সমস্যা হতে পারে |
  • নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করুন : রিসার্চ করে জানা গেছে ওবেসিটির সঙ্গে কিডনির সংক্রান্ত সমস্যার ভালো যোগাযোগ আছে | যত বেশি ওভার ওয়েট হবেন তত বেশি সমস্যা বাড়বে | তাই নিয়মিত ব্যায়াম করা খুবই জরুরী |
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না : বেশ কিছু অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ যেমন আইব্রুফেন এবং ন্যাপরক্সিন যদি নিয়মিত খাওয়া হয়‚ এর থেকে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে | আপনার যদি ক্রনিক ব্যথা‚ আরথ্রাইটিস বা পিঠে ব্যথা থাকে তাহলে নিজে ওষুধ না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন |

রসুনের অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিকগুল..

যকৃতের ক্ষতি:

রক্ত পরিশোধন, চর্বি ও প্রোটিন বিপাক, শরীর থেকে অ্যামোনিয়া অপসারণ ইত্যাদি হল যকৃতের অন্যতম কাজ। গবেষণা বলে, রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ উপাদান যকৃতে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে যদি মাত্রাতিরিক্ত রসুন খাওয়া হয়। 

ডায়রিয়া:

খালি পেটে রসুন খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। কারণ রসুনে আছে সালফার যা পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং ডায়রিয়া হওয়ার পেছনে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকে।

বমি ও বুক জ্বালাপোড়া:

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, খালি পেটে তাজা রসুন সেবন করলে বুক জ্বালাপোড়া, বমিভাব ও বমি হতে পারে। হার্ভার্ড মেডিকাল স্কুলের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, রসুনের এমন কিছু উপাদান আছে যা জিইআরডি বা গ্যাস্ট্রোয়েসোফাজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ হওয়ার কারণ।

দুর্গন্ধ:

রসুন বেশি খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। এর প্রধান কারণ রসুনে থাকা সালফার।

রক্তপাত বাড়ায়:

রক্তের ঘনত্ব কমানোর প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে খ্যাতি আছে রসুনের। তাই যারা ‘ওয়ারফারিন’ ‘অ্যাসপিরিন’ ইত্যাদি ‘ব্লাড থিনার’ ধরনের ওষুধ সেবন করেন তাদের অতিরিক্ত রসুন খাওয়া উচিত হবে না। কারণ এতে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে আভ্যন্তরীন রক্তপাত শুরু হতে পারে।

গর্ভবতী নারীর জন্য নয়:

গর্ভবতী নারীদের রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এতে ‘লেইবার পেইন’ বা প্রসব বেদনা বেড়ে যেতে পারে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েদেরও রসুন থেকে দূরে থাকতে হবে কারণ তা দুধের স্বাদ পাল্টে দেয়।

মাথা ঘোরানো:

রসুন বেশি খাওয়ার কারণে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, ফলে দেখা দিতে পারে নিম্ন রক্তচাপের বিভিন্ন উপসর্গ।

ঘাম বাড়ায়:

একাধিক ক্লিনিকাল স্টাডিতে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রসুন সেবন করলে ঘাম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নারী যৌনাঙ্গের প্রদাহ:

নারী যোনাঙ্গে ‘ইস্ট’জনীত প্রদাহের চিকিৎসা চলাকালে রসুন থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ রসুন নারী যৌনাঙ্গের সংবেদনশীল টিস্যুতে অস্বস্তি সৃষ্টি করে।

দৃষ্টিশক্তির সমস্যা:

রসুনের উপকারিতা কি বা অপকারিতা কি সকলের জানা ধরকার তা না হলে অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার কারণে ‘হাইফিমা’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ ‘আইরিস’ ও ‘কর্নিয়া’র মাঝে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। ফলাফল হারাতে পারে দৃষ্টিশক্তি।

যৌনতার বাগিচায় যদি নতুন কিছুর শুরু না হয়, তাহলেই সর্বনাশ। মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষদেরও বেশ কিছু যৌন সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে পুরুষদের অনুন্নত মানের স্পার্মের জন্য যৌন অক্ষমতা দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি মিলি লিটার শুক্রাণুতে ২০ মিলিয়নের কম স্পার্ম থাকলে যেকোনো পুরুষ অনুর্বর হতে পারেন। বাজে খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অ্যালকোহল, অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ব্যায়ামে অনীহা প্রভৃতি কারণে দিন দিন অনুর্বরতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক রসুন।

রসুনের পুষ্টিগত মান

রসুনের পুষ্টিগত মান
রসুনের পুষ্টিগত মান

রসুনকে অনেক দিন সুরক্ষিত রাখার উপায় …

রসুনের উপকারিতা কি
রসুনের উপকারিতা কি
  • রসুন কেনার আগে ভাল করে তা হাতে ধরে টিপে দেখে নিন যে কোনোরকম আর্দ্রতা বা নরম ভাব আছে কি না। নরম বা আর্দ্র হলে তা খুব তাড়াতাড়ি পচে যেতে পারে। তাই কিনবেন না।
  • রসুন সেরকম দেখেই কিনুন যেগুলি বেশ শক্ত ও ডাঁটির সাথে আটো সাটো করে বাধা থাকে।
  • আপনার যদি প্রায় দিনই রসুন খাওয়ার অভ্যেস থাকে তাহলে বড় কোয়া দেখে রসুন কিনবেন। কারণ, ছোট কোয়ার রসুনের খোসা ছাড়ানো খুব সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
  • রসুন ছাড়ানোর ও সংরক্ষণ করার সেরা উপায় হল কোয়াগুলিকে ছাড়িয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিয়ে তারপর একটি মুখ বন্ধ করা স্টিলের বাটিতে রেখে ভালো করে ঝাঁকানো। তাতে এক মিনিটের মধ্যে সব খোসা বেরিয়ে আসে।
  • রসুন কখনও ফ্রিজে রাখবেন না। সাধারণ ঘরোয়া তাপমাত্রায় শুকনো জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করবেন।
  • খোসা ছাড়িয়ে বেশিক্ষণ রসুন রাখলে রসুনের আসল গন্ধ চলে যায়; তার বদলে একটি অন্যরকম ঝাঁঝালো গন্ধ ফুটে ওঠে। সেটি তখন আর ভালো লাগেনা। তাই ঠিক রান্নায় ব্যবহার করার আগে বা খাওয়ার আগেই সেটির খোসা ছাড়াবেন।
  • খোসা ছাড়িয়ে রসুন রাখলে তা একটি মুখ বন্ধ করা শুকনো ব্যাগে রাখবেন। তার আগে সেগুলিকে একটু ভিনিগার বা তেল দিয়ে মাখিয়ে নেবেন

কে বা কাদের রসুন খাওয়া উচিত নয়

  • অনেকের রসুন খেলে এলার্জির সমস্যা দেখা যায়। তাদের রসুন খাওয়া উচিত নয়।
  • পেটের আলসার, আই.বি.এস, আই.বি.ডি. বা যেকোনো রকমের ইন্টেস্টাইনের সমস্যা থাকলে রসুন খাওয়া উচিত নয়।
  • কোনোরকম সমস্যার জন্যে যদি আপনার ডাক্তার রসুন খেতে না করেন, তাহলে রসুন খাওয়া উচিত নয়।
  • সবকিছুর মধ্যেই ভালো ও মন্দ দুটি দিকই থাকে। এক্ষেত্রেও তাই। তাই আপনাকে ঠিক করতে হবে ঠিক কতটা পরিমাণ রসুন খাওয়া আপনার জন্যে ঠিক। যাই হোক না কেন, রসুন খাওয়ার উপকারিতা প্রচুর। তাই প্রতিদিন অল্প পরিমাণ রসুন অবশ্যই খাওয়া উচিত। এর ফলে আপনার শরীরের নানারকমের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। রসুন নিয়ে আমাদের এই তথ্যগুলি কেমন লাগলো আপনার? এর মধ্যে কোনোটা কি আপনার কাজে লাগল ? কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

চলুন রসুনের ব্যবহার জেনে নিন:-

রসুনের উপকারিতা কি
রসুনের উপকারিতা কি
  • রসুন অ্যালিসিনের পরিমাণ বাড়ায়, তাই খাওয়ার আগে রসুন কুচি করে নিন। 
  • যদি রান্না করার জন্য কুচি করা রসুন ব্যবহার করতে চান তবে রান্নার আগে ১০ মিনিট যত্ন করে রেখে দিতে হবে।
  • সম্ভব হলে প্রতিদিন খাবারের সাথে এক কোয়া রসুন খেতে পারেন।
  • রসুনে ক্যালোরি কম। তাই ডায়েটে রসুন ব্যবহার করতে পারেন।
  • উচ্চ রক্তচাপের জন্য রসুন অনকে উপকারী। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা অবশ্যই তাদের খাদ্যে রসুন ব্যবহার করা নিশ্চিত করুন।
  • রসুন নানা অসুখে কাজে লাগতে পারে। রসুন ঠান্ডা লাগা নিয়ন্ত্রণ করে। ঠান্ডা লাগার তীব্রতা হ্রাসও করতে পারে।
  • রসুন শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি মোট এবং বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • রসুন পরিপাকক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। সকালে এক কোয়া রসুন খেতে পারলে শরীর থেকে ক্ষতিকারক বিষাক্ত   পদার্থ বের করে দিতে পারে এটি। রসুনের উপকারিতা কি জানা ধরকার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here