রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকতে জেনে নিন ৫০টি টিপস

0
749
রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকতে

রোগ-বালাই শিশুদের প্রায়ই বমি, পেট ব্যথা লেগেই থাকে। রোগ-বালাই অনেকে ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও হয়ে যায়। এসবের জন্য অনেকাংশে দায়ী অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ। সেজন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি খাবার তৈরি করা, পরিবেশন ও খাওয়ার সময় কিছু স্বাস্থ্য টিপস মানতে হবে ,রোগ-বালাই ।রোগ-বালাই ।|রোগ-বালাই

খাওয়ার আগে:

খাওয়ার আগে সাবান অথবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। হাত মোছার কাপড় বা তোয়ালেও পরিষ্কার হওয়া চাই।
• খাবার খোলা জায়গায় রাখা যাবে না। কোন খাবার ঢাকনা ছাড়া না রাখাই উত্তম।
• খাবার তৈরি করা বা রান্না করার সময় মায়েদের চুলের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। চুল যেন খাবারে না পড়ে। চুল পেটে গেলে পেট ফেঁপে থাকার সম্ভাবনা থাকে।
খাবার তৈরির সময় খাবারের সামনে কাশি বা হাঁচি দেয়া যাবে না। কাশি বা হাঁচি দেয়ার পর আবার ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

হাত ধোয়ার স্বাস্থ্যবিধি:

হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে মীনা কার্টুনে কেমন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তাতো আমরা দেখেছি। শুধু মীনা কার্টুন না প্রায় সব স্বাস্থ্যবিধিতে হাত ধোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ সারাক্ষণই আমাদের হাত কোন না কোন কাজে ব্যস্ত থাকে। আর সারাক্ষণই হাতে লাগতে পারে জীবাণু। সেজন্য হাত ধোয়ার আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে। হাত ধোয়া নিয়ে আমাদের একটা পূর্ণাঙ্গ ব্লগ আছে এইখানে।

ঘুমানোর স্বাস্থ্যবিধি

মানুষের সুস্বাস্থ্যের অন্যতম উৎস হচ্ছে ঘুম। রাতে ঠিকঠাক ঘুম না হলে পরের দিনটা কতটা বাজে যায় তা আমরা সবাই বুঝতে পারি। সেজন্য শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য তাদের নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করতে হবে ও কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
• শিশুদের ১০ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।

বিছানা শুধু :

• বিছানা শুধু ঘুমানোর জন্য করুন। টিভি দেখা কিংবা হোমওয়ার্কের জন্য বিছানা ব্যবহার না করাই উত্তম।
• ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন। সবসময় ঐ একই সময় মানার চেষ্টা করুন।
• লোমযুক্ত খেলনা বা টেডি বিয়ার নিয়ে ঘুমাতে না দেয়াই ভালো। লোমযুক্ত খেলনা নিয়ে ঘুমালে রাতে নিশ্বাসের সাথে খেলনার লোম নাকে গিয়ে ইনফেকশন হতে পারে।
• শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য রুম থেকে এলার্ম ও অন্যান্য গেজেট দূরে রাখুন।
শিশুদেরকে ঘুমানোর উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে হবে। ও ঘুমানোর স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

মুখের ও দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি:

শিশুকে মুখ ও দাঁতের যত্ন না নিলে শিশুর মুখে ক্যাভেটি, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, মুখে ইনফেকশন ও দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। সেজন্য শিশুর মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্যবিধির দিকে নজর দেয়া জরুরী।

শিশুর দুই বার দাঁত ব্রাশ নিশ্চিত করুন :

• শিশুর দুই বার দাঁত ব্রাশ নিশ্চিত করুন। সকালের নাস্তার পর একবার ও রাতে ঘুমানোর আগে একবার।
• শিশুর জন্য ছোট ও নরম টুথব্রাশ পছন্দ করুন।
• দুই বছর বয়স থেকেই টুথপেস্ট ব্যবহার করে নিজে নিজে ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অভ্যাস গড়ার জন্য শিশুর সাথে একসাথে ব্রাশ করতে পারেন।
• ২ বছরের কম বয়সীদের জীবাণু নাশক টিস্যু (উইবস) দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে দিতে পারেন।
• দাঁতের বাইরে, ভেতরে ও চর্বণকৃত অংশ ভালোভাবে ব্রাশ করতে হবে।

চুলের স্বাস্থ্যবিধি

চুলের যত্নে গুরুত্ব না দিলে শিশুর চুলে উঁকুন ও মাথার তুলিতে অনেক ইনফেকশন হতে পারে। এমন সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য শিশুর চুলের যত্নে কিছু বিষয়ের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন।

শিশুর চুল ধোয়ার মতো বড় হলে :

• শিশুর চুল ধোয়ার মতো বড় হলে সপ্তাহে দুই বার শ্যম্পু দিয়ে ভালোভাবে আপনার সন্তানের চুল ধোয়া নিশ্চিত করুন।
• শিশুর চুল লম্বা হলে চুল ভালোভাবে বেঁধে রাখতে বলুন যেন নোংরা না হয়।
• শিশুর বালিশ, ক্যাপ, চিরুনী ও অন্যন্য প্রসাধনী অন্য কারো সাথে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকতে জেনে নিন

নখের স্বাস্থ্যবিধি:

শিশুরা বাইরে খেলাধুলা করার মাধ্যমে, টয়লেট ব্যবহার করার সময় ও কোন কিছু ধরার মাধ্যমে শিশুর নখ ময়লা ও জীবাণু বহন করে। পরে সেই জীবাণু বিভিন্নভাবে পেটে গিয়ে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। শিশুর নখের স্বাস্থ্যবিধি মানার মাধ্যমে এইসব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

শিশুর নখের :

• শিশুর নখের দিকে নজর দিতে হবে। নখ বড় হলেই নিয়মিত শিশুর নখ কাটতে হবে।
• অনেক শিশুর দাঁত দিয়ে নখ কাটে। শিশুকে এর ক্ষতি সম্পর্কে বুঝিয়ে এই অভ্যাস দূর করতে হবে।
• খাওয়ার আগে ও পরে, কোন পোষা প্রাণী ধরার পরে, বাইরে থেকে আসার পরে, হাঁচি ও কাশি দেয়ার পরে, টয়লেট ব্যবহারের পরে ভালো করে নখের নিচের অংশ সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

সতর্কতা ও করণীয় :

১। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হৃদরোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন করবেন।

২। শীতের শুরুতে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ গ্রহণ করে ওষুধপত্রের মাত্রা ঠিক করে নিন।

৩। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বাইরে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং কাপড় সঙ্গে রাখুন।

৪। বাইরে হাঁটাহাঁটি করতে যাওয়ার সময় গরম কাপড়, জুতা, ছাতা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিয়ে বের হবেন।

৫। বয়স্ক হৃদরোগীরা প্রতিদিন গোসল না করে একদিন পর পর হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন। মনে রাখবেন খুব বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল আপনার স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

৬। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরিমাণ বিশেষ করে শর্করাজাতীয় খাবার ১৫ থেকে ২০% বৃদ্ধি করা উচিত। বয়স্ক হৃদরোগীর শীতকালীন বৃষ্টির সময় ঘরের বাইরে না যাওয়াই উওম।

৭। নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে রাখুন যাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন। তাই এসব বিষয়ে আরও সচেতন হোন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here