শিশুর খাদ্য তালিকা?৬-৮ মাস ও ৯-১২ মাস বয়সি শিশুর খাদ্য তালিকা..

0
1969
শিশুর খাদ্য তালিকা
শিশুর খাদ্য তালিকা

৬-৮ মাস বয়স শিশু :

৬-৮ মাস বয়স শিশু
  • সকাল ৭টা-৮টা বুকের দুধ অথবা ৬-৮ আউন্স দুধ
  • সকাল ১০টা, ৪-৬ টেবিল চামচ সুজি/খিচুড়ি, ৪-৬ টেবিল চামচ চটকানো ফল।
  • দুপুরে বুকের দুধ অথবা ৬ আউন্স দুধ, ১-৩ টেবিল চামচ খিচুড়ি/সুজি।
  • বিকেলে ১-৩ টেবিল চামচ চটকানো ফল। বুকের দুধ, ৩-৬ আউন্স দুধ
  • রাতে বুকের দুধ/৬-৮ আউন্স দুধ। খিচুড়ি/সুজি ৪ টেবিল চামচ।

৯-১২ মাস বয়স শিশু :

৯-১২ মাস বয়স শিশু
৯-১২ মাস বয়স শিশু
  • সকাল ৭-৮টায় বুকের দুধ/৬-৮ আউন্স দুধ।
  • সকাল ১০টায় চার-আট টেবিল চামচ খিচুড়ি/সুজি, ৪ টেবিল চামচ পরিমাণ চটকানো ফল।
  • দুপুরে বুকের দুধ/৬-৮ আউন্স দুধ। ৪ টেবিল চামচ খিচুড়ি/সুজি। ৪ টেবিল চামচ সবজি/মাংস
  • বিকেলে বুকের দুধ/৬-৮ আউন্স দুধ। বিস্কুট/দই/মিষ্টি জাতীয় যেকোনো একটা খাবার।
  • সন্ধ্যায় ৪ টেবিল চামচ সবজি/মাংস। ৪ টেবিল চামচ পরিমাণ চটকানো ফল। নুডলস/নরম পিঠা/কেক ইত্যাদি।
  • রাতে বুকের দুধ/৬-৮ আউন্স দুধ। ৪-৬ টেবিল চামচ খিচুড়ি/সুজি।

শিশুর জন্য সুষম খাদ্য :

শিশুর জন্য সুষম খাদ্য

স্বাস্থ্য, সুঠাম ও অটুট রাখতে হলে সঠিক খাদ্য নির্বাচন করা খুবই প্রয়োজন। দেখা গেছে: মাছ, মাংস বা ডাল, দুধ, ভাত বা রুটি, ফল-সবজি, পানি এই পাঁচ জাতের খাদ্য আমাদের প্রতিদিনের খাবারে থাকলে আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষা হয়। এই খাবারগুলোর প্রতিটির পরিমাণ এমন হতে হবে, যাতে ক্যারোলি, ভিটামিন, খণিজ-লবণ, পানি- এই চারটি জিনিসেরই দৈহিক চাহিদা ঠিকমত পূরণ হয়; আর এ-রকম খাদ্যই হচ্ছে সুষম খাদ্য। শিশুর খাদ্য তালিকা

সাধারণভাবে বলা যায়, উপরে যে ছয় ধরনের খাবারের উৎস লিখা হয়েছে, এর প্রতিটি উৎস থেকে একটি বা দুটি পছন্দসহ খাবার যা স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এবং দামেও কম-বেছে নিয়ে মিলিয়ে প্রতিদিন খেলে দেহের খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়। প্রতিদিনই মাছ, মাংস বা ডিম জোগাড় করা না গেলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এ গুলোর পরিবর্তে ডাল, সিমের বিচি বা ছোলা খেলেও চলবে। অনেক শিক্ষিত পরিবারে এ রকম দেখা যায়: ছেলে পছন্দ করে তাই তাকে ভাত, চিনি ও ঘি দিয়ে খাবার দেয়া হয়। এ ভাবে খেলে তার কাজ করার শক্তির চাহিদা কিছুটা মিটবে, কিন্তু এই খাবারে আমিষ, লবণ, ভিটামিনের অভাবহেতু তার শরীরের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি-সাধন হবে না, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জন্মাবে না।

আমাদের খাওয়ার অভ্যাস :

খাবার দামী হলেই যে তা সব সময় ভাল খাবার হবে, এর কোন মানে নেই। কম দামের খাবার থেকেও দেহের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যাপাদান পাওয়া যেতে পারে। মাছ, মাংস ও ডিমের দাম বেশী; এ সমস্ত আমিষ জাতীয় খাদ্যের অভাব আমরা কম দামের খাদ্য, যেমন ডাল, সিম, ছোলা ইত্যাদি দিয়ে পূরণ করতে পারি। হয়তো অনেকেই জানেন না যে, ডালে প্রচুর আমিষ থাকে, ডাল থেকে ভিটামিন এবং খণিজ লবণও পাওয়া যায়।

ভাত,ডাল,তেল,সবজি (কলা,পেঁপে,লাউ) এবং সম্ভব হলে মাংস, কলিজা বা ডিম মিলিয়ে যে খিঁচুড়ি তৈরী করা হয়, তা খুবই মুখরোচক এবং পুষ্টিকর। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ছয়টি খাদ্যাপাদানই বর্তমান থাকে। চালের চেয়ে গম কম পুষ্টিকর নয়। গমের দামও কম। দুই এক বেলা আটার রুটি বা আলুর চপ খেয়েও আমরা চালের চাহিদা কমাতে পারি। সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ লবণ আছে। গ্রামে প্রায় প্রত্যেকের বাড়ীতেই রান্নাঘরের পাশে ছোট্ট এক চিলতে জায়গা থাকে। এতে সহজেই মৌসুমী ফল-মূল ও শাক-সবজি ফলানো যায়। তাহলে, শাক-সবজি বাজার থেকে কম কিনতে হয়।

অনেকেই মনে করেন: ফল দামী হলেই বুঝি এর খাদ্যমান বেশী হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আপেল ও কমলালেবুর দাম পেয়ারা বা আমলকির চাইতে অনেক বেশী; কিন্তু পেয়ারা বা আমলকিতে যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে, তা কমলালেবু ও আপেলের চাইতে অনেকগুণ বেশী। উপরোন্ত, পেয়ারাতে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। আঙ্গুরের খাদ্যমান অত্যন্ত নিম্নমানের। শিশুর খাদ্য তালিকা

শিশুর খাদ্য কেমন হওয়া উচিত আমরা অনেকে জানি না:

শিশুর খাদ্য তালিকা

শিশুর খাদ্য অপর্যাপ্ত কিংবা ত্রূটি হলেই শিশু হবে অপুষ্টির শিকার। তাই সুস্থ স্বাভাবিকভাবে শিশুকে বেড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করা। শিশুর খাদ্য নির্বাচনের সময় তার বয়সসীমা, তার কার্যকলাপ, সুস্থতা ইত্যাদি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক লক্ষণীয়। শিশু বয়সকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন_ ১ থেকে ৩ বছর, ৩-৬ বছর [প্রি-স্কুলগামী], ৬-১২ বছর [স্কুলগামী]।

শিশুর বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে নজর রাখতে হয় তার খাবারের কিলোক্যালোরি, প্রোটিন, খনিজ লবণ [ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ, জিংক ও আয়োডিন], ভিটামিন [এ, ডি, সি, বি-কমপ্লেক্স], পানি ও দুধের প্রতি। তাহলে জানা দরকার বয়সভেদে খাবারের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। যেমন_ ১-৩ বছরের শিশুর দৈনিক কিলোক্যালোরির প্রয়োজন ১২১০-১২৫০। কিন্তু ৩-৬ বছরের শিশুর প্রয়োজন ১৭০০ কিলোক্যালোরি দিনে। সে ক্ষেত্রে ৬-১২ বছরের শিশুর প্রয়োজন আছে ১৯৫০-২১০০ কিলোক্যালোরি। 

এ ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েতে কিছুটা পার্থক্য দেখা দেয়। প্রোটিনের বেলায়, শিশু বয়সেই প্রতি কেজি ওজনের জন্য বেশি প্রোটিন প্রয়োজন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি কেজি ওজনে কমলেও মোট প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যেমন_ ১-৩ বছরে ১.৫-২ গ্রাম/কেজি; ৩-৬ বছরে ২ গ্রাম/কেজি; ৬-১২ বছরে মোট প্রোটিন প্রয়োজন ৪০-৬০ গ্রাম দিনে।

এ ছাড়াও অন্যান্য উৎপাদানের চাহিদা মেটানোর জন্য অল্প করে দৈনিক খাবারের পরিমাণ [মাছ, মাংস, ভাত, রুটি, সবজি, ফল ইত্যাদি] বাড়ালেই যথেষ্ট। তবে দুধের পরিমাণ খাবারে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুধের পরিমাণ কমে অন্য খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়ে, তবে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দুধ থাকা প্রয়োজন।শিশুর খাদ্য তালিকা

কোন ধরনের খাবার শিশুর জন্য উপযোগী :

ভাত, রুটি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, পাতাসবজি, সবজি, মৌসুমি ফল, শুকনা ফল, পানি ও পানীয় সব ধরনের খাবারের সঙ্গেই শিশুকে অভ্যস্ত করতে হবে এবং দৈনিক খাদ্য তালিকায় তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে শিশুভেদে খাবার তৈরিতে কিছুটা পার্থক্য রাখা যায়। যেমন_ কোনো শিশু সরাসরি ডিম খেতে না চাইলে তাকে ডিমের হালুয়া, পুডিং, কাস্টার্ড ইত্যাদি তৈরি করে দেওয়া যায়। মাছ-মাংসের পরিবর্তে খিঁচুড়ি দেওয়া যায় কিংবা ফিশফিঙ্গার, কাবাব তৈরি করা যায়। আবার সবজি বড়া তৈরি করে সবজির চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব।

এ ছাড়াও মনে রাখা দরকার, নতুন নতুন খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মৌসুমি ফল, সবজি অবশ্যই শিশুর খাদ্যে সংযোজন করা প্রয়োজন। তবে জাঙ্ক ফুড শিশুর সুস্বাস্থ্যের অন্তরায়। ফলে এসব খাবার শিশুর খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বাঞ্ছনীয় এবং যে খাবারই দিই না কেন সেটা যেন টাটকা হয়।

পুষ্টিকর খাবার

পুষ্টিকর খাবার

প্রথম ছয় মাসে কেবলমাত্র মায়ের দুধই শিশুর জন্য একমাত্র পুষ্টিকর খাবার। সাত নম্বর মাস থেকে শিশুকে ২ -৪ চা চামচ কমলার রস, গাঢ় সবুজ রঙের সবজি ও গাজর সিদ্ধ করে ছেঁকে শুধু পানি টুকু ২ -৫ চা চামচ, ডিমের কুসুম ২ – ৩ চা চামচ, ভাত, ডাল, সবজি, তেল এক সঙ্গে রান্না করে ব্লেন্ডারে তরল করে  ছেঁকে তরলটুকু এবং সিদ্ধ চালের গুঁড়া চিনি ও দুধ দিয়ে পায়েসের মত পাতলা করে রান্না করে খাওয়াতে হবে।

এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর শিশুকে গলাভাত ও চিনি একসঙ্গে চট্‌কে ২ টেবিল চামচ করে খাওয়াতে হবে। এছাড়া নরম খিচুড়ী অর্থাৎ ভাত মাছ বা নরম মাংস ও ডাল, সবজি একসঙ্গে রান্না করে ঘুটনি দিয়ে নরম করতে হবে, চাল অথবা সুজির পাতলা হালুয়া, চটকানো আলুসিদ্ধ, নরম করে পানি পোচ ডিম, স্যুপের মতো করে  শাক, সবজি ও ডাল রান্না এবং ফলের মধ্যে পাকা পেঁপে, পাকা কলা, পাকা আম শিশুকে খাবার উপোগী করে খাওয়াতে হবে। শিশুর খাদ্য তালিকা

করণীয়

  • শিশুর জন্মের পরই তাকে শালদুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
  • প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
  • প্রথম ছয় মাসে শিশুকে পানিও দেওয়া যাবে না।
  • ছয় মাস পর থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি শিশুকে পুষ্টিকর বাড়তি খাবার দিতে হবে এবং দুই বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
  • শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পুষ্টিকর ও ভিটামিন সমৃদ্ধ সুষম খাবার নিয়মিত  খাওয়াতে হবে।
  • জন্মের দুই বছর পর থেকে প্রত্যেক ৬ মাস অন্তর একবার কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে।
  • শিশু যেন পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায় সেজন্য মাকেও পুষ্টিকর আমিষ (মাছ, মাংস, মসুর ডাল), শর্করা (ভাত, রুটি, মুড়ি, চিড়া) ও ভিটামিন সি (দেশী ফল) জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • শিশু সারাদিনে ৬ বার প্রস্রাব করলে বুঝতে হবে সে পর্যাপ্ত দুধ খাচ্ছে।
  • বয়স অনুযায়ী  শিশুর শারীরিকবৃদ্ধি বা মানসিক বিকাশে কোন প্রকার অসুবিধা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

সকালের নাস্তা:

  • আধা কাপ আয়রন সমৃদ্ধ সিরিয়াল অথবা ১ টা সিদ্ধ ডিম, সিরিয়াল এর সাথে কিছু মৌসুমি ফল মিশিয়ে দিতে পারেন
  • আধা কাপ খাঁটি দুধ (সিরিয়ালের সাথে অথবা সিরিয়াল ছাড়া )
  • অর্ধেক পাকা কলা
  • ২-৩টি বড় স্লাইস স্ট্রবেরি

সকালের জলখাবার:

  • ১ ফালি টোস্ট বা ১-২ টেবিল চামচ ক্রিম পনির বা চিনাবাদাম মাখন এর সাথে  ১টি গমের তৈরি কাপকেক  বা ১-কাপ কাটা ফল দিয়ে দই
  • আধা কাপ খাঁটি দুধ

দুপুরের খাবার:

  • ৩০ গ্রাম ভালোভাবে রান্না করা মুরগির মাংস বা রোস্ট, ডিম সালাদ(ভর্তা ডিম), বা চিনাবাদাম মাখন
  • রান্না করা সবুজ শাকসবজি বা সব্জিখিচুড়ি আধা কাপ
  • আধা কাপ খাঁটি দুধ

বিকেলের জলখাবার:

  • দুই-তিন টুকরা মৌসুমী ফল
  • আধা ফালি শুদ্ধ গমের টোস্ট অথবা রুটির উপরে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে
  • ১-কাপ খাঁটি দুধ

রাতের খাবার:

  • ২-৩ আউন্স রান্না করা মাংস
  • রান্না করা হলুদ, কমলা বা সবুজ শাকসবজি আধা কাপ
  • ভাত কিংবা আলু সিদ্ধ আধা কাপ
  • আধা কাপ খাঁটি দুধ

নির্দেশিকা

  • এখন বিভিন্ন ধরনের ফল সমন্বিত সস চিনি ছাড়াই পাওয়া যায়; এবং এতে আমরা বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত পুষ্টির সম্ভার পেতে পারি।
  • দুধ একটি বোতলের জায়গায়, কাপ দিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।
  • মাঝেমধ্যে খাটি দুধের বদলে দধি দুধ খাইয়ে দেখতে পারেন; এতে সহায়ক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনার জন্য ভাল।

শিশুর খেতে না চাওয়ার কারণ ও প্রতিকার

বেশির ভাগ বাবা-মায়েরই অভিযোগ বাচ্চা খেতে চায় না। অনেক ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি নিয়ে মা-বাবা উৎকণ্ঠায় থাকেন। সাধারণত কিছু কিছু রোগের কারণে শিশুদের রুচি কমে যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা অত জটিল কিছু নয়। হয়তো শিশু তার রুচি ও পরিমাণ অনুযায়ী ঠিকই খাচ্ছে, কিন্তু বাবা-মা তাতে তৃপ্ত হচ্ছেন না। মনে রাখতে হবে, বয়স অনুযায়ী মানসিক ও শারীরিক বিকাশ অন্য বাচ্চাদের মত হলে শিশুর খাওয়া নিয়ে বাবা-মায়ের দুঃশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

শিশুর প্রতি বাবা-মায়ের মনযোগ কমে গেলেও সে খাওয়া কমিয়ে দিতে পারে। ইদানিং কর্মজীবী মায়ের সংখ্যা অনেক। ব্যস্ততার কারণে তারা হয়তো শিশুকে ঠিকমত সময় দিতে পারেন না। মায়েদের ব্যস্ততা শিশুর মনে দাগ কাটে। সে হয়তো শুধু খাবারের সময়টাতেই মাকে কাছে পায়। তাই অবচেতনেই তার মনে ঢুকে যায় যে, খাবার খেতে বেশি সময় নিলে বা খাবার নিয়ে যন্ত্রণা করলে মায়ের সঙ্গ আরও বেশি পাওয়া যাবে। সে ভাবে, ঠিকমত না খেলে বা খাবার নিয়ে যন্ত্রণা করলে তাকে হয়তো বাবা-মা সময় বেশি দিবে। এই কারণেও অনেক সময় শিশুরা খাবারের সময় নানান বায়না ধরে, ঠিকমত খেতে চায় না।

কোন ধরনের খাবার শিশুর জন্য উপযোগী

তবে সবার ক্ষেত্রে এটি সত্যি নয়। কিছু বাচ্চা আছে যারা সত্যি সত্যি খায় না। এদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিটাও ঠিকমতো হয় না। এদের ক্ষেত্রে দেখতে হবে বাচ্চাটি কি অপুষ্টির শিকার হচ্ছে কিনা বা তার রক্তশূন্যতা আছে কিনা? অনেক সময় বাচ্চার ঘন ঘন ইনফেকশন বা সংক্রমণ হলে খাওয়ার রুচি কমে যায়। এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

এর পাশাপাশি শিশুর পেটে কৃমি আছে কিনা তাও দেখতে হবে। কিছু বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া থাকতে পারে, অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা থাকতে পারে। এগুলোও অরুচির কারণ। আমাদের দেশে মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণেও শিশুদের খাবারে অরুচি হতে পারে। তাই সমস্যা গুরুতর মনে হলে রোগনির্ণয়ের জন্য ডাক্তারের পরামর্শমত কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা উচিত। এছাড়া আরো কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন:

  • শিশুদের সাথে খাওয়ানো নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে আচরণগত পরিবর্তন আনুন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঘুম থেকে উঠেই খিচুড়ি বা অন্য খাবার না দিয়ে আগে বুকের দুধ দিন। বুকের দুধ খাওয়ানোর দুই-তিন ঘণ্টা পর অন্য খাবার দিন। খাবার নিয়ে জোর করবেন না। শিশুকে নিজের হাতে খেতে অভ্যস্ত করে তুলুন। খাবার প্রস্তুত, বাজার বা পরিবেশনে সম্ভব হলে তাকে সঙ্গে রাখুন। তার পছন্দমতো মাছ, মাংস বা সবজি কিনুন। এতে খাবারের প্রতি শিশুর আগ্রহ বাড়বে। আর আমাদের সকলের শিশুর খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জানতে হবে।

শিশুকে যখন-তখন চিপস, জুস, চকলেট বা এই ধরণের খাবার দেওয়া যাবে না, এতে খিদে নষ্ট হয়।

আহারের মধ্যবর্তী সময়গুলোতে শিশুকে অন্যান্য খাবার বেশি দেবেন না। যেমন: ভাত খাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে দুধ বা নাশতা দেবেন না। শিশুর স্কুল যদি ১২টায় ছুটি হয়, তবে ফিরে এসে তেমন কোনো নাশতা না দেওয়াই উচিত। এক্ষেত্রে খিদে থাকা অবস্থাতেই দুপুরের খাবার দিয়ে দেওয়া যায়।

শিশুকে এক খাবার প্রতিদিন দেবেন না। উদাহরণস্বরূপ রোজ ডিম সেদ্ধ না দিয়ে ডিমের তৈরি নানা জিনিস যেমন, পুডিং, জর্দা ইত্যাদি দিতে পারেন। দুধের ক্ষেত্রেও তাই। পুডিং, সেমাই বা পায়েসে প্রচুর দুধ থাকে, সেটাই খেতে দিন। ফল খেতে না চাইলে কাস্টার্ড করে দিন।

অনেক সময় খাবার পরিবেশনে ভিন্নতা আনলেও কাজ হয়। রঙিন পাত্রে খাবার পরিবেশন করুন। খাবার টেবিলকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলুন।

শিশু যদি খুব অন্যমনস্ক থাকে, তাহলে খিদে নষ্ট হয়ে যায়। ধরুন, আপনার শিশুর বন্ধুরা সবাই বাইরে খেলাধুলা করছে আপনি জোর করে বাড়ির মধ্যে রেখে তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন, তাহলে কিন্তু আপনার শিশুটি একেবারেই খেতে চাইবে না। বরং টিভি দেখা কমিয়ে শিশুর জন্য পর্যাপ্ত খেলার ব্যবস্থা করুন, এতে খিদে বাড়বে।

সচরাচর এটাই দেখা গেছে, শিশু যদি একা খায় তাহলে সে খুব বেশি খেতে চায় না। কিন্তু যদি সপরিবারে বসে একসঙ্গে খায়, তাহলে আপনার শিশুটিও খেতে উত্সাহ পাবে। তাই দিনে লাঞ্চ বা ডিনার সবাই একসাথে করুন।

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, বাচ্চার ওজন বয়সের তুলনায় বেশি অথচ বাবা-মায়ের অভিযোগ শিশুটি একদম খায়ই না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বাবা-মাকে বুঝাতে হবে যে, শিশু যদি ঠিকঠাক না খেত তাহলে তার ওজন বেশি হতো না। এরপরও যদি জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয় তবে তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আর যদি দেখা যায় বাচ্চা ঠিকঠাক বাড়ছে না এবং বয়সের তুলনায় ওজন অনেক কম বা অতিরিক্ত বেশি তাহলে দ্রুত কোনো শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুর খাদ্য তালিকা সম্পর্কে।

শিশুর খাবারে অরুচির কারণ ও প্রতিকার

শিশুর খাবারে অরুচি খুবই পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। বাবা-মা থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই শিশুর রুচি নিয়ে চিন্তিত থাকেন। প্রায় সব বাবা-মায়েরই অভিযোগ, শিশু ঠিকমতো খেতে চায় না। শিশুর রুচি কমে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন। আর এ জন্য শিশুর রুচির বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাবা-মায়ের ভূমিকা : শিশুকে খাওয়ানোর ব্যাপারে বাবা-মায়ের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়ানোর সময় শিশুর সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। খাবারকে শিশুর কাছে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে হবে। শিশুর খিদে না থাকলেও তাকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করা অনুচিত এতে রুচি কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, জোর করার কারণে খাবারের প্রতি শিশুর মনে ভয় ও অনীহা জন্ম নেয়। তাই জোর না করে নিয়মমতো খাওয়ার ব্যাপারে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।

শিশুকে সময় কম দেওয়া : শিশুর প্রতি বাবা-মায়ের মনোযোগ কমে গেলেও সে খাওয়া কমিয়ে দিতে পারে। ব্যস্ততার কারণে অনেকে হয়তো শিশুকে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। শিশুর যত-পরিচর্যা কম হয়। এতে করে বাচ্চার রুচি কমে যায়, শিশুর বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

মানসিক চাপ : শিশুর যদি রুচি কমে যায়, ঘুম কম হয় এবং সব সময় তাকে বিরক্ত মনে হয়, তবে বুঝতে হবে কোনো কারণে শিশুটি মানসিক চাপে ভুগছে। মানসিক চাপ শিশুর রুচি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এ সময় শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। মানসিক চাপ কমিয়ে তাকে হাসিখুশি রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণত শিশুরা ভয় পেলে, একাকী থাকলে কিংবা বাবা-মায়ের কাছ থেকে কম সময় পেলে মানসিক চাপে ভোগে।

শারীরিক অসুস্থতা : শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুর খাওয়ার রুচি কমে যায়। সাধারণত জ্বর, গলা ব্যথা, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, কিংবা ডায়রিয়া হলে শিশুর খাবারের পরিমাণ কমে যায়। সাধারণত সুস্থ হয়ে উঠলেই বেশিরভাগ শিশুর রুচি ঠিক হয়ে যায়। শিশুর শারীরিক অসুস্থতার সময় খাবারের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। এ সময় শিশুকে অল্প-অল্প করে বারবার খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত সুস্থতার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মতো চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

কৃমির সংক্রমণ : কৃমির সংক্রমণ শিশুদের শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। কৃমি শিশুর পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে সেখানে পরজীবী হিসেবে অবস্থান করে। এর ফলে শিশুর নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। রুচিও কমে যায়। কৃমির সংক্রমণ হলে শিশুকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী

কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর খাদ্য তালিকা

রক্তশূন্যতা : রক্তশূন্যতা রুচি কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। রক্তশূন্যতায় ভোগা শিশুরা অন্য শিশুদের তুলনায় দুর্বল ও ক্লান্ত থাকে। এরা বেশিরভাগ সময়ই বিরক্ত থাকে এবং প্রায়ই কান্নাকাটি করে। সময়মতো রক্তশূন্যতার চিকিৎসা না করালে এসব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

এসব কিছুর পাশাপাশি শিশু ঠিকমতো বেড়ে উঠছে কি না সেদিকেও নজর রাখতে হবে। যদি দেখা যায় যে, শিশু সমবয়সীদের মতোই বাড়ছে এবং তার ওজনও ঠিক আছে তাহলে বুঝতে হবে তার শরীরে পুষ্টির কোনো ঘাটতি নেই। অর্থাৎ আপনার শিশুর খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক আছে। শিশুর খাদ্য তালিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here